সবুজ পাতার ঘন ছাউনি, লতাগুল্মের মায়াবী জড়াজড়ি আর ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল জীবন্ত ইতিহাস। চারপাশের কোলাহল ছাপিয়ে সেখানে শুধুই পাখিদের কলকাকলি আর শীতল বাতাসের দোলা। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ইন্দ্রা গ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী ‘ইন্দ্রার বটতলা’ বর্তমানে বিনোদনপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে এই স্থানটি। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির একটু নিביל সান্নিধ্য পেতে সব বয়সী মানুষ এখন ভিড় করছেন এই ছায়াসুনিবিড় প্রাঙ্গণে।
স্থানীয় বয়োবৃদ্ধদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বটগাছটির বয়স প্রায় শত বছরেরও বেশি। কালের বিবর্তনে গাছটি তার মূল কাণ্ড ছাড়িয়ে চারদিকে ডালপালা ও অসংখ্য ঝুড়ি (মূল) নামিয়েছে। সেই ঝুড়িগুলো ক্রমান্বয়ে মাটিতে প্রবেশ করে একেকটি নতুন শক্তিশালী কাণ্ডের রূপ নিয়েছে। ফলে মূল গাছটি কোনটি, তা এখন আর আলাদা করে চেনার উপায় নেই। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এটি কোনো একটি একক গাছ নয়, বরং বুক চিরে জেগে ওঠা আস্ত এক সবুজ অরণ্য। তীব্র রোদ বা গরমেও এই গাছের নিচে নামলে এক অদ্ভুত শীতল অনুভূতি পাওয়া যায়, যা মুহূর্তেই পথিকের ক্লান্তি দূর করে দেয়। প্রাক-গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরেও এই বিশাল বৃক্ষচ্ছায়া এক প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতো কাজ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এই ইন্দ্রার বটতলার সৌন্দর্য জেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে洍 ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউবের কল্যাণে এই নান্দনিক দৃশ্য দেখে প্রতিনিয়ত এখানে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের সমাগম রীতিমতো মেলায় রূপ নেয়।
ইন্দ্রার বটতলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ইতোমধ্যে ছোটখাটো কিছু অস্থায়ী দোকানপাট, চা-নাস্তার দোকান ও ফুচকার টং গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে দর্শনার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিবেচনা করে এই স্থানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পর্যটকদের বসার জন্য যদি গাছের চারপাশে কিছু আধুনিক ও নান্দনিক বেঞ্চ তৈরি করা যায়, বিশুদ্ধ খাবার পানির সুব্যবস্থা করা এবং নারীদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম বা শৌচাগার স্থাপন করা যায়, তবে এখানে দর্শনার্থীদের আগমন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে শতবর্ষী এই প্রাচীন গাছটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এর সুরক্ষায় সীমানা প্রাচীর ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
যশোর জেলা শহর কিংবা বাঘারপাড়া উপজেলা সদর—উভয় স্থান থেকেই সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ চমৎকার ও সুগম। যশোর বা বাঘারপাড়া থেকে যেকোনো ইজিবাইক কিংবা নিজস্ব মোটরসাইকেলে চড়ে খুব সহজেই ইন্দ্রা গ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী বটতলায় পৌঁছানো সম্ভব। গ্রামীণ পিচঢালা আঁকাবাঁকা রাস্তা পার হয়ে এই সবুজের সমারোহে পৌঁছানোর পথটিও বেশ উপভোগ্য।
২ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
২৩ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১ দিন ৫৪ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে