সাতক্ষীরার বেসরকারি ডা. এম.আর. খান শিশু হাসপাতালে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিয়োগ স্থগিত ও পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীদেরই চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ও স্বাক্ষরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা আগামী ১ এপ্রিল থেকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করবেন। তবে এই নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।
অভিযোগ রয়েছে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই সাজানো ছিল। লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয় এবং পরবর্তীতে স্থগিতের নাটক সাজিয়ে একই প্রার্থীদের পুনরায় বৈধতা দেওয়া হয়।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বজনপ্রীতি নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন। যেমন—ডা. জয়ন্তর আত্মীয় হিসেবে পরিচিত ডা. তনিমা রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান, হাসপাতাল কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম. জামান খানের ভাগিনা রাফিদ খান এবং সঞ্জীব বাবুসহ আরও কয়েকজন এই তালিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এই নিয়োগে প্রার্থীপ্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। মোট ছয়জন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য চালানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তারা আরও বলেন, নিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা ছিল কেবলমাত্র জনরোষ সামাল দেওয়ার কৌশল। বাস্তবে নতুন করে প্রার্থী বাড়িয়ে দেখানো হলেও চূড়ান্ত তালিকায় আগের সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরই রাখা হয়েছে।
এদিকে নিয়োগ বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে পুরো প্রক্রিয়াটি প্রভাবিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বঞ্চিত প্রার্থীরা এই নিয়োগ বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অন্যথায় এটি হবে একটি দৃষ্টান্তমূলক নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনা, যা ভবিষ্যতে আরও অনিয়মকে উৎসাহিত করবে।
সর্বমহলে এখন প্রশ্ন—নিয়োগ স্থগিতের পরও যদি একই প্রার্থীরা যোগদান করেন, তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গাটি কোথায়?
৫ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে