কারাগারের চার দেয়াল এখন আর ভোটাধিকারের পথে বাধা নয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই কারাগারের ১০০ জন বন্দী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দীদের ভোটাধিকারের বিষয়টি আগেভাগেই জানানো হয়েছিল।প্রাথমিকভাবে ১২৯ জন বন্দী অনলাইনে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংক্রান্ত জটিলতা ও কারিগরি কারণে চূড়ান্ত তালিকায় ১০০ জনের নাম অনুমোদিত হয়। শনিবার কারাগারের ভেতরেই বিশেষ নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোট গ্রহণ করা হয়।প্রতিটি বন্দীর নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার ব্যালট পেপার সংবলিত খাম নির্বাচন কমিশন থেকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেও দেশের সরকার গঠনে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পেরে বন্দীদের মধ্যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো নির্দেশিকা পড়ে তারা নিজ নিজ আসনের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ব্যালট পেপারগুলো সিলগালা করেন। পরে এই সিলগালাকৃত খামগুলো কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হাসান এই সফল উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন:"এটি গণতন্ত্রের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করল। আমাদের নিবন্ধিত বন্দীদের মধ্যে ১০০ জন সফলভাবে ভোট দিয়েছেন। বিধি মেনে এই ব্যালটগুলো পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দীরাও যে রাষ্ট্রের অংশ, সেই স্বীকৃতি আরও দৃঢ় হলো।"এর আগে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে কারাবন্দীদের এভাবে সংঘবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার নজির নেই। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এই উদ্যোগটি আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশিষ্ট্যের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
৩ মিনিট আগে
৫০ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে