শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
যাচাই-বাছাইয়ের শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সদ্যপ্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ও শোক প্রকাশ করেন। এরপর তার মৃত্যুজনিত কারণে মনোনয়নপত্রটির আইনি কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তার দাখিল করা হলফনামা ও নথিপত্রে কোনো অসংগতি না থাকায় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছেন।
ছাড়াও এ আসনে আরও সাতজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর মো. মাইনুল আলম, জাতীয় পার্টির আহমেদ শফি রুবেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রেজাউল করিম, জনতার দলের মো. রবিউল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলর বাংলাদেশের মো. খাইরুজ্জামান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের কিবরিয়া হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের লায়লা তুল রীমা। তাদের দাখিল করা নথিপত্র সঠিক থাকায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী অমৃত কুমার রায়ের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে কেন্দ্রী কমিটির বিগত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাতার স্বাক্ষরিত চিঠি যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য বৈধ নয়। সে কারণে বর্তমান মনোনয়নদাতার স্বাক্ষরিত চিঠি না থাকায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম বারের মত বেগম খালেদা জিয়ার নাম ঘোষণার পর থেকে এ আসনে নতুন করে রাজনীতির মোড় ঘুড়ে দাঁড়িয়ে ছিল।নেতা কর্মীদের মধ্যে এ আসন নিয়ে পারস্পারিক বিরোধের অবসান হয়েছিল,ফিরে পেয়েছিল আত্মবিশ্বাস ও স্পৃহা।কিন্তু খালেদা জিয়ার আকর্ষিক মৃত্যুতে নেতা কর্মীদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে যেন রাজনৈতিক অঙ্গন।
অপরদিকে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা হলেন— বিএনপির মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জামায়াতে ইসলামীর মো. আফতাব উদ্দীন মোল্লা, জাতীয় পাটির মো. নুরুল আমিন শাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসাইন। তাদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রার্থী এবং প্রার্থীদের অবর্তমানে তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।