শার্শায় ধানের শীষকে হারিয়ে জয়ী ‘দাঁড়িপাল্লা’: ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে আজিজুর রহমান বিজয়ী কেশবপুরে ‘দাঁড়িপাল্লার’ জয়জয়কার: ধানের শীষকে পেছনে ফেলে বিজয়ী অধ্যাপক মুক্তার আলী যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য অমিতের জয়: নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাদেরের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই খাগড়াছড়িতে বেসরকারিভাবে ওয়াদুদ ভূইয়া বিজয়ী মণিরামপুরের রায়: ধানের শীষ-স্বতন্ত্রকে পেছনে ফেলে বিজয়ী গাজী এনামুল হক নোয়াখালীতে ৩জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি ধামরাইয়ে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯, ভোট কেন্দ্র ১৪৭ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে নোয়াখালীর হাতিয়াতে হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৩০ নোয়াখেলেীতে নারী ভোটারদের উপছে পড়া ভিড় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহণে আমরা সন্তুষ্ট: নাহিদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন সাবেক মন্ত্রী বয়সকে তুড়ি মেরে কেন্দ্রে ১২০ বছরের সরণা: 'ভোট তো আমানত, ফেলে রাখি কেমনে?' শ্যামনগরে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন শেরপুরে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনতাই: একজনের ৩ বছরের কারাদণ্ড যশোর-২: সাবিরা সুলতানার পক্ষে ‘গণজোয়ার’, ভোটের মাঠ থেকে পিছুটান জামায়াত-শিবিরের ঢাকা-২০ আসনে জয়-পরাজয়ে ফেক্টর হিসেবে গন্য করা হচ্ছে নারী ও আওয়ামী লীগ ভোটারদের উৎসবের রঙে যশোরের ভোট: কেন্দ্রজুড়ে তারুণ্যের জোয়ার, সন্তোষ প্রকাশ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছায় দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে: মঈন খান ভোটের সকালেই উত্তপ্ত যশোর: তালবাড়িয়ায় ককটেল ও হামলা, আহত ২

রাজনীতির সংস্কার নয়, প্রয়োজন সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিপ্লব

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 24-12-2025 12:40:45 am

মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী : বাংলাদেশের রাজনীতি আজ কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আস্থাহীনতা, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক বিভাজনের এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত। রাজনৈতিক দল বদলায়, সরকার আসে–যায়, কিন্তু রাজনীতির আচরণগত সংস্কৃতি প্রায় অপরিবর্তিত থেকে যায়। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন ওঠে—সমস্যার মূল কোথায়? উত্তরটি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে: কেবল রাজনৈতিক সংস্কার দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়; প্রয়োজন একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিপ্লব।


রাজনীতি সমাজেরই প্রতিফলন। সমাজে যদি যুক্তিবোধের চেয়ে আবেগ, সহনশীলতার চেয়ে বিদ্বেষ এবং নৈতিকতার চেয়ে সুবিধাবাদ প্রাধান্য পায়, তবে রাজনীতিও তার বাইরে থাকতে পারে না। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অসহিষ্ণু ভাষা, প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ ও শক্তির প্রদর্শন ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এই চক্র ভাঙতে হলে সমাজের চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধের ভেতরেই পরিবর্তনের সূচনা প্রয়োজন।


সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিপ্লব বলতে কোনো আকস্মিক বা সহিংস পরিবর্তন নয়; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, গণমাধ্যম ও নাগরিক পরিসরে যুক্তিবাদ ও মানবিকতার ধারাবাহিক চর্চাকেই বোঝায়। এই প্রক্রিয়া মানুষকে কুসংস্কার, গুজব ও আবেগপ্রবণতা থেকে বের করে এনে তথ্যভিত্তিক ও বিবেচনাপ্রসূত চিন্তার দিকে ধাবিত করে। নাগরিকরা তখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে ন্যায়, যুক্তি ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিতে শেখে।


এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ে নাগরিক সচেতনতার ওপর। সচেতন নাগরিক অন্যায় ও দুর্নীতিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয় না। ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের শাসন লঙ্ঘন কিংবা মানবাধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে। ফলে রাজনীতিতে জবাবদিহির চাপ সৃষ্টি হয়, যা গণতন্ত্রকে কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, কার্যকর রূপ দিতেও সহায়ক।


একই সঙ্গে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিপ্লব ভিন্ন-মতের প্রতি সহনশীলতা গড়ে তোলে। গণতন্ত্রে মতভেদ অনিবার্য, কিন্তু তা শত্রুতায় রূপ নেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যর্থতারই লক্ষণ। ভিন্ন মতকে গ্রহণ করার মানসিকতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক ও শালীন ভাষার চর্চা রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস করতে পারে। এতে রাজনীতির পরিসর আরও সভ্য ও সংলাপনির্ভর হয়ে ওঠে।


সর্বশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিকে সুস্থ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কার তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা সমাজের মূল্যবোধগত পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বিত হবে। একটি সচেতন, সহনশীল ও নৈতিক সমাজই পারে একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ নির্মাণ করতে।


লেখক  : মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ,ঢাকা।


আরও খবর