মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার শীলকুপে অবস্থিত ইকোপার্কে প্রবেশ করলেই যে পরিচিত হাসিমুখটি সবার নজর কাড়ে, তিনি হলেন ৬৬ বছর বয়সী আহমদ মিয়া। গত বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এখানে বসে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন। পার্কের দর্শনার্থীদের কাছে তিনি এখন শুধু একজন বিক্রেতা নন; যেন এই ইকোপার্কেরই একটি পরিচিত অংশ। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, যুবক বয়সে দিনমজুরের কাজ করতেন আহমদ মিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারী কাজ করতে না পারায় ছোটখাটো ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত নেন। তখনই ২০০১ সালে তিনি বাঁশখালী ইকোপার্কের ভিতর ঝালমুড়ির ভাসমান দোকান বসান।
আহমদ মিয়া জানান—
> “গরিব মানুষ। কাজ না করলে চলে না। এই জায়গাটাই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”
তার এই ছোট ভাসমান দোকানেই চলেছে বাড়ির সংসারের কিছু খরচ।
তার ঝালমুড়ির স্বাদ আর মানুষের টানই তাকে আলাদা করে দিয়েছে
স্থানীয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা তার ঝালমুড়ির স্বাদ আর আন্তরিকতাকে আলাদা করে উল্লেখ করেন। অনেকেই তাকে ডাকেন- “ঝালমুড়ি চাচা” নামে।
এক দর্শনার্থী বলেন—
> “বাঁশখালী এলে তার তার ভাসমান দোকানে থেকে ঝালমুড়ি ও বিভিন্ন রকম আচার না খেলে ভ্রমণই যেন অসম্পূর্ণ থাকে। আহমদ মিয়া রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে টিকে থাকা এক সংগ্রামী মানুষ, গরমের দহন, বর্ষার বৃষ্টি, শীতের কাঁপুনি—কোনো কিছুকেই পরোয়া করেন না তিনি। মাটির উপর বসেই সবসময় কাজ চালিয়ে যান।
আহমদ মিয়া হেসে বলেন—
> “বৃষ্টি আসলেও ভিজে ভিজে ঝালমুড়ি বানাই। মানুষ খুশি হলে আমার কষ্ট ভুলে যাই।”
স্থানীয় মানুষেরা জানান,
> “তিনি শুধু একজন বিক্রেতা নন, পার্কের ইতিহাসেরই অংশ। তাকে সম্মান জানানো দরকার।”
দিনভর কাজ শেষে ক্লান্ত হলেও তার চোখে তৃপ্তির ঝিলিক— তিনি বলেন,
“মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওনা।”
বাঁশখালী ইকোপার্কে প্রতিদিনের বহু দর্শনার্থীর স্মৃতির একটি অংশ হয়ে আছেন আহমদ মিয়া—একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনের গল্প।
১ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে