শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন অনুপ্রেরণার উৎস : এমপি বাবু লাখাইয়ে প্রেসক্লাব এর ঈদপুর্নমিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। রায়পুরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুল আহাদ, প্রতিবাদে মানববন্ধনের ঘোষণা লাখাইয়ে মসজিদে সিজদাহ্ রত অবস্থায় এক মুসল্লীর মৃত্যু। ২ নং সুন্দরবন ইউনিয়নে খাল খনন সংস্কার পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আদমদীঘিতে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৭মামলা, জরিমানা ১৬ হাজার টাকা ঈদ উপলক্ষে ঝিনাইগাতীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শহীদ জিয়ার শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচি উপেক্ষা! অশ্লীল নৃত্য-গানের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতা বহিষ্কার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন না করায় বকশীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জমকালো ভাবে সেবার আলো ফাউন্ডেশন’-এর ৩য় বর্ষপূর্তি এবং স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন সেচ্ছাসেবী মিলন মেলা অনুষ্ঠিত ‎সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা: প্রজনন সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে কর্মহীন বনজীবীরা ‎ ৩ জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের উলিপুরে প্রশাসনের উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত উলিপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত জুয়ার আসর নিয়ে বিরোধ: ঝগড়া থামাতে গিয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রায়পুরে এনসিপি নেতাকে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ, থানায় আটক আনোয়ার হোসেন ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা সড়কে আটকে তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

দুই বিঘা জমি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 16-09-2025 07:41:27 pm

শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে।

বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’

কহিলাম আমি, ‘তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই –

চেয়ে দেখো মোর আছে বড়জোর মরিবার মতো ঠাঁই।

শুনি রাজা কহে, ‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা,

পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা –

ওটা দিতে হবে।’ কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি

সজল চক্ষে, ‘করুন রক্ষে গরিবের ভিটেখানি।

সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া,

দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া!’

আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে,

কহিলেন শেষে ক্রুর হাসি হেসে, ‘আচ্ছা, সে দেখা যাবে।’


পরে মাস-দেড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে –

করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে।

এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি,

রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

মনে ভাবিলাম, মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে,

তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।

সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য –

কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য।

ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি

তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে সেই দুই বিঘা জমি।

হাটে মাঠে বাটে এইমত কাটে বছর পনেরো-ষোলো,

একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হল।।


নমোনমো নম, সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি!

গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি।

অবারিত মাঠ, গগনললাট চুমে তব পদধুলি –

ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।

পল্লবঘন আম্রকানন, রাখালের খেলাগেহ –

স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল নিশীথশীতলস্নেহ।

বুক-ভরা-মধু বঙ্গের বধু জল লয়ে যায় ঘরে

মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।

দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে প্রবেশিনু নিজগ্রামে –

কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি, রথতলা করি বামে,

রাখি হাটখোলা নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে

তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে।।


ধিক্ ধিক্ ওরে, শত ধিক্ তোরে নিলাজ কুলটা ভূমি,

যখনি যাহার তখনি তাহার – এই কি জননী তুমি!

সে কি মনে হবে একদিন যবে ছিলে দরিদ্রমাতা

আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া ফলফুল শাক-পাতা!

আজ কোন্ রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছ বিলাসবেশ –

পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ!

আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগি গৃহহারা সুখহীন,

তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী, হাসিয়া কাটাস দিন!

ধনীর আদরে গরব না ধরে! এতই হয়েছ ভিন্ন –

কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ সে দিনের কোনো চিহ্ন!

কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ী, ক্ষুধাহরা সুধারাশি।

যত হাসো আজ, যত করো সাজ, ছিলে দেবী – হলে দাসী।।


বিদীর্ণহিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি –

প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে সেই আমগাছ একি!

বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,

একে একে মনে উদিল স্মরণে বালককালের কথা।

সেই মনে পড়ে, জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,

অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন –

ভাবিলাম হায়, আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন।

সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,

দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।

ভাবিলাম মনে, বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা।

স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।।


হেনকালে হায় যমদূতপ্রায় কোথা হতে এল মালী।

ঝুঁটিবাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।

কহিলাম তবে, ‘আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব –

দুটি ফল তার করি অধিকার, এত তারি কলরব।’

চিনিল না মোরে, নিয়ে গেল ধরে কাঁধে তুলি লাঠিগাছ;

বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ –

শুনে বিবরণ ক্রোধে তিনি কন, ‘মারিয়া করিব খুন।’

বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।

আমি কহিলাম, ‘শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!’

বাবু কহে হেসে, ‘বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়!’

আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোরে ঘটে –

তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে।।

আরও খবর