আশি-নব্বইয়ের দশক, সহজ জীবনের সেই সোনালি দিনগুলো শ্রাবণের দিনে বৃষ্টি-রোদের খেলা আমি ক্ষমতায় থাকতে ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না: নেতানিয়াহু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গাজী নজরুল ভোট দিতে পারবেন কিনা, জানালেন শিশির মনির সালমান শাহ হত্যা মামলা গ্রেপ্তার খলনায়ক ডন কারাগারে চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ কমিটি বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি, অভিযোগ জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আদমদীঘিতে মোবাইল ফোন কিনে না দেয়ায় বিষপানের তরুনের মৃত্যু ‎অভাবের চরম শিখরে চুল বিক্রির ঘটনা: অসহায় রেহানার পাশে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মেলান্দহ থানার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়াই 'জামিন অযোগ্য’ ধারায় মামলা নেওয়ার অভিযোগ, কর্মকর্তাদের দাবি, 'চিকিৎসা সনদ অনুযায়ী প্রতিবেদন দেওয়া হবে' বাঘায় ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে শিক্ষককে বহিস্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের ডোমারের ইউএনও সহ ৮৩ জনকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ ক্লাসের পড়া ক্লাসে পড়ালে কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে হবে না’ : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাবিপ্রবিতে ‘লোকাল অ্যাকশন, গ্লোবাল গোলস’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে হাওর অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিনামূল্যে নৌকা সার্ভিস উদ্বোধন লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ লাখাইয়ে প্রয়াত ধলাই মিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত। আশাশুনির বুধহাটায় ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা ‎রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্যোগে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

আশি-নব্বইয়ের দশক, সহজ জীবনের সেই সোনালি দিনগুলো

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম 

আশি কিংবা নব্বইয়ের দশক সময়টা যেন আজকের ব্যস্ত পৃথিবীর কাছে এক হারিয়ে যাওয়া গল্প। তখন জীবন ছিল সহজ, চাওয়া-পাওয়া ছিল অল্প, কিন্তু আনন্দ ছিল অনেক বেশি। হাতে স্মার্টফোন ছিল না, ঘরে ইন্টারনেট ছিল না, টেলিভিশনও ছিল সবার নিত্যসঙ্গী নয়। তবুও মানুষের মুখে হাসির কমতি ছিল না। তখন সকাল শুরু হতো পাখির ডাক আর মায়ের মমতামাখা ডাকে। ঘুম থেকে উঠে উঠানে বসে নাশতা, তারপর বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে ছুটে যাওয়া। বিকেল হলেই পাড়ার ছেলেমেয়েরা এক জায়গায় জড়ো হতো। গোল্লাছুট, কানামাছি, দাড়িয়াবান্ধা, লুকোচুরি, মার্বেল কিংবা ফুটবল খেলার যেন শেষ ছিল না। হার-জিত নিয়ে সামান্য অভিমান হতো, আবার কিছুক্ষণ পরেই সবাই একসঙ্গে হাসতে হাসতে খেলায় মেতে উঠত। তখন কারও হাতে মোবাইল ফোন ছিল না, কিন্তু একে অন্যের খোঁজ নিতে মানুষের কোনো অসুবিধা হতো না। কারও বাড়িতে অতিথি এলে পাড়া-প্রতিবেশীর সবাই যেন আপনজন হয়ে যেত। কারও ঘরে রান্না হলে পাশের বাড়িতেও তার গন্ধ পৌঁছে যেত, আর অনেক সময় খাবারও পৌঁছে যেত থালায় করে গ্রামের জীবন ছিল আরও বেশি আপন। সন্ধ্যা নামলেই উঠানে পাটি বিছিয়ে বসত গল্পের আসর। দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা শোনাতেন রূপকথা, ভূতের গল্প কিংবা পুরোনো দিনের কাহিনি। শিশুরা মুগ্ধ হয়ে শুনত। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরক্তি নয়, বরং হারিকেনের আলোয় গল্প করার আনন্দই ছিল আলাদা।

তখন চিঠিরও ছিল আলাদা আবেগ। দূরে থাকা প্রিয়জনের একটি চিঠি হাতে পাওয়া মানেই ছিল আনন্দের উৎসব। চিঠির প্রতিটি শব্দ বারবার পড়া হতো। অপেক্ষারও যেন একটা সৌন্দর্য ছিল। আজকের মতো মুহূর্তেই বার্তা পৌঁছে যেত না, কিন্তু মানুষের অনুভূতিগুলো হয়তো আরও গভীর ছিল। বাজারে গেলে পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হতো। দোকানদার শুধু ক্রেতা হিসেবে দেখতেন না, মানুষ হিসেবেও চিনতেন। প্রতিবেশীর সুখে আনন্দ আর দুঃখে পাশে দাঁড়ানো ছিল সামাজিক জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। কারও বাড়িতে বিপদ এলে খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগত না মানুষ ছুটে যেত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে।

তখন জীবন ছিল কষ্টের, কিন্তু সেই কষ্টের মধ্যেও ছিল তৃপ্তি। নতুন জামা মানেই উৎসব, নতুন জুতা মানেই আনন্দ, ঈদের সকালে নতুন পোশাক পরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো মানেই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখ। আজ আমাদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি, মুহূর্তে যোগাযোগের সুযোগ, বিনোদনের অসংখ্য মাধ্যম। জীবন অনেক সহজ হয়েছে, কিন্তু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সেই নির্ভেজাল আনন্দ। মানুষ কাছাকাছি থেকেও দূরে সরে গেছে। একই ঘরে বসে সবাই নিজের নিজের মোবাইলের পর্দায় ডুবে থাকে।

আশি-নব্বইয়ের দশক হয়তো ফিরে আসবে না। ফিরে আসবে না সেই বিকেলের মাঠ, হারিকেনের আলো, পাড়ার আড্ডা কিংবা চিঠির অপেক্ষা। কিন্তু সেই সময়ের ভালোবাসা, আন্তরিকতা আর সহজ জীবনযাপনের শিক্ষা আজও আমাদের জন্য অমূল্য। সময়ের সঙ্গে পৃথিবী বদলেছে, মানুষ বদলেছে, জীবনযাত্রা বদলেছে। তবুও মাঝেমধ্যে মনে হয় এত কিছু পাওয়ার পরও যদি ফিরে যাওয়া যেত সেই আশি-নব্বইয়ের দিনে, যেখানে চাওয়া ছিল কম, সম্পর্ক ছিল গভীর আর সামান্যতেই মন ভরে যেত।


সেই দিনগুলো হয়তো সত্যিই ছিল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়—যেখানে জীবন ছিল সহজ, মানুষ ছিল আপন, আর সুখ ছিল হাতের মুঠোয়।


Tag