সাতক্ষীরার আয়েনউদ্দীন মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি, অবৈধ নিয়োগ ও অনুপস্থিত শিক্ষকের বেতন আত্মসাতসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই তদন্ত পরিচালনা করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
সাতক্ষীরা সদরের ইটাগাছা গ্রামের নজরুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের আশ্বাসে তার ছেলে রাশেদুজ্জামানের কাছ থেকে অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ৪ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন এবং পরে আরও ৬ লক্ষ টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত টাকা না পেয়ে রাশেদুজ্জামানকে কৌশলে বাদ দিয়ে অন্য প্রার্থী মো. আব্দুল মাজেদ আলীর কাছ থেকে বেশি ঘুষ নিয়ে তাকে নিয়োগ দেন।
তদন্তকালে দেখা যায়, আব্দুল মাজেদ আলীর বয়স নিয়োগের সময় ৪১ বছর হলেও তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল মাত্র পঞ্চম শ্রেণি। সরকারি বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর হলেও তা উপেক্ষা করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তদন্তে অধ্যক্ষ কর্তৃক ভুয়া রেজুলেশন তৈরি ও গভর্ণিং বডির সিদ্ধান্ত গোপনের প্রমাণও পাওয়া যায়।
অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম জানান, অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের একটি রেজুলেশন পত্রে গভর্ণিং বডির পূর্ব সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে দুইটি ফাঁকা লাইনে ভিন্ন কালি দিয়ে নিয়োগের সিদ্ধান্ত লিখে তা জালিয়াতির মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। অথচ ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির গভর্ণিং বডি সভায় আব্দুল মাজেদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল, যা রেজুলেশন বইতে উল্লেখ আছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, মাদ্রাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক মো. আব্দুর রহমান ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর যোগদানের পর ১১ মাসে মাত্র ১০–১২ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বাকি সময় তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। অথচ তার নামে সরকারি বেতন তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ রুহুল আমিন কৌশলে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর জাল করে এবং বেতন বিলের স্বাক্ষর নিজের হাতে লিখে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী একমত হয়ে সাক্ষ্য দেন এবং অধ্যক্ষের অপকর্মের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযোগ আনেন। তদন্তকালে উপস্থিত সবার সামনে অধ্যক্ষ রুহুল আমিন নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, “রাশেদুজ্জামানের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলাম, চাকরি দিতে না পারায় তা ফেরত দিয়েছি।”
তদন্ত কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে এবং উভয় পক্ষের কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ রুহুল আমিন খুলনার আলোচিত টিকটকার নুসরাতের পিতা এবং আলোচিত নাইম হত্যাকাণ্ডের মামলার একমাত্র স্বীকারোক্তিমূলক আসামি নুসরাত ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলারও অন্যতম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা ও এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
২৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে