মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস ও কর্মস্থল। জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, কেরানীহাটসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন চট্টগ্রাম শহরে আসা-যাওয়া করেন। তবে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে যাতায়াত মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বৃহস্পতিবার এলেই দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের কাছে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ এলাকা যেন এক দুর্বিষহ ভোগান্তির নাম হয়ে ওঠে।
সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলো শেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার অনেকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আর সেই সুযোগেই নতুন ব্রিজের বাসস্টেশনে শুরু হয় যাত্রীদের এক ধরনের জিম্মিদশা এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীদের।
সৌদিয়া ও এস আলম পরিবহনের ভাড়া সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু লোকাল বাস, বিশেষ করে ঈগল, কথিত সাইনবোর্ডধারী হানিফসহ কয়েকটি পরিবহন বৃহস্পতিবার দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। অথচ অন্যান্য দিনে নতুন ব্রিজ থেকে লোহাগাড়া পর্যন্ত যেখানে প্রায় ১০০ টাকা এবং সাতকানিয়া-কেরানীহাট পর্যন্ত প্রায় ৮০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, বৃহস্পতিবার একই পথের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে অনেক বেশি টাকা দাবি করা হয়।
গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার দিকে নতুন ব্রিজ বাসস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় ঈগল বাসের এক হেলপারকে উচ্চস্বরে বলতে শোনা যায়, “আমিরাবাদ-কেরানীহাট ১৫০ টাকা।” আবার কোনো কোনো বাসের লোকজন আরও বেশি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
হঠাৎ বাড়তি ভাড়ার এমন দাবিতে বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বাসে উঠলেও অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে থাকেন। পরিবারের কাছে ফেরার তাড়া, রাত বাড়ার দুশ্চিন্তা এবং ছোট শিশু ও নারী যাত্রীদের ভোগান্তি—সব মিলিয়ে নতুন ব্রিজ এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অসহনীয় পরিস্থিতি।
ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আমাদের বাড়ি হওয়াটাই কি আমাদের অপরাধ? বৃহস্পতিবার বাড়িতে যেতে হবে বলেই কেন আমাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে?”
তাদের প্রশ্ন, একটি নির্দিষ্ট দিনে যাত্রী বেশি হবে—এই অজুহাতে কি ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া যায়? সপ্তাহের অন্য দিন যে পথের নির্ধারিত বা প্রচলিত ভাড়া নেওয়া হয়, বৃহস্পতিবার একই পথের জন্য কেন কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করা হবে?
যাত্রীদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতি বৃহস্পতিবারই নতুন ব্রিজ থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের এমন ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি চলে এলেও কার্যকর প্রতিকার না থাকায় সাধারণ মানুষ অনেকটা নিরবে-নিঃশব্দে এই দুর্ভোগ সহ্য করে আসছেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, যাত্রীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? যাত্রীরা বলছেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ও ভাড়ার ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন থাকলে কোনো পরিবহন মালিক বা শ্রমিকের ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ থাকার কথা নয়।
একজন যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নতুন ব্রিজে এসে মনে হয় আমরা যেন জিম্মি হয়ে যাই। বাড়িতে যাব, পরিবারের সঙ্গে দেখা করব—এই আনন্দের যাত্রাটাই অতিরিক্ত ভাড়া আর ভোগান্তির কারণে কষ্টে পরিণত হয়। প্রতিবাদ করলেও লাভ হয় না, বাসে উঠতে হলে তাদের দাবিকৃত ভাড়াই দিতে হয়।”
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাধারণ যাত্রীদের দাবি, নতুন ব্রিজ এলাকায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হোক। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যাত্রীদের যেন কোনোভাবেই জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কাছে বৃহস্পতিবার মানে পরিবারের কাছে ফেরার দিন। অথচ সেই ফেরার পথেই যদি শুরু হয় অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আর সীমাহীন ভোগান্তি, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় সাধারণ যাত্রীদের এই নীরব কান্না আর কতদিন চলবে?
সচেতন যাত্রীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং নতুন ব্রিজ থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের জন্য ন্যায্য ভাড়া, নিরাপদ যাত্রা ও হয়রানিমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
৫৪ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে