ইসলামপুরে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ পেট্রোলিয়াম ফুটবল ফেস্ট সিজন-৯ এর শিরোপা জিতল শ্যাডো স্ট্রাইকার্স গত ১৭ বছর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, বুলু নারী সেজে অনলাইনে প্রেম', পুরুষ হয়ে আরেক পুরুষকে বিয়ে করল প্রবাসী যুবক মুহূর্তের ঝড়ে মধুপুরে লণ্ডভণ্ড ৫৩ হেক্টর কলা-পেঁপের খেত নবীনদের পদচারণায় প্রাণ পেল দক্ষিণ নড়াইল শিমুলিয়া মহাবিদ্যালয় শ্যামনগর দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এমএমএস ট্যাবলেট বিতরণ উদ্বোধন ধর্ম-বর্ণ কারো সুযোগে বাধা হবে না: প্রধানমন্ত্রী নাঙ্গলকোট বাজার ব্যবসায়ী সংস্থার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চিলমারীতে "চরে ইনক্লুসিভ কালচারাল ও স্পোর্টস ইভেন্ট" অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিপ্রবিতে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে মারামারি, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আশাশুনিতে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোমারে যুব রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান আধুনগরে অবৈধ করাতকলে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা ব্যাংকে বন্ধক থাকা জমি তৃতীয় পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার নিয়ে 'ইকরামুল উম্মাহ্ ফাউন্ডেশন'-এর নতুন কমিটি গঠন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর সাময়িক বহিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা তারালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আর নেই একজন"মাস্টার মশাই'' অধ্যাপক নূরুল ইসলামে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; ভোগান্তিতে জনজীবন ‎

‎সাতক্ষীরার টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ভোগান্তিতে জনজীবন।  টানা কয়েক দিনে‎ বর্ষণে নদী-খালের অপরিকল্পিত খনন ও দখলের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা।

‎

‎শহরের অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট খাওয়ার পানির উৎস টিউবওয়েলসহ টয়লেট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ভেঙে পড়েছে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

‎দূষিত পানি ও স্যানিটেশন সমস্যায় ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগ। অনেকে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিতে ডুবে রয়েছে আমন ধানের বীজতলাসহ কৃষি জমি।

‎

‎টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শহরের রাস্তাঘাট ও নিম্মঞ্চল। শহরের রসুলপুর, মেহেদীবাগ, মধু মল্লার ডাঙ্গী, পলাশপোল, পুলিশ লাইন, কামাল নগর, ইটাগাছা, রাজারবাগান, মাছখোলা, পুরাতন সাতক্ষীরা, বদ্দীপুর কলোনি, আলিয়া মাদ্রাসা, রথখোলা বিল, কুখরালী, গড়েরকান্ডা, বাঁকাল, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, বারুইপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা গুলো এখন পানির নিচে। অতিবৃষ্টিতে ফলে আমন ধানে রোপনে সংশয় দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তার রয়েছে কৃষকরা।

‎

‎বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও আবার ড্রেনের পচা পানি প্রবাহিত হচ্ছে সড়কের উপর দিয়ে। ঢুকে পড়েছে বসত বাড়িতেও। বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে খাওয়ার পানির উৎস গুলোও। এ সব কারণে সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগ।

‎

‎এ দিকে বছরের ৬ মাস পানিতে প্লাবিত থাকে শহরে বেশিরভাগ এলাকা। সাতক্ষীরা পৌরসভা কাগজ কলমে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবার মান বরাবরই অভিযোগ ওঠে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের ও পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থাকেই দায়ী করছে স্থানীয়রা।

‎

‎বারুইপাড়া এলাকার দীনু রঞ্জন বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কুখরালী উত্তরপাড়ার রাস্তাটি প্রায় ১ মাস যাবৎ ১০০ পরিবারের ৫০০ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। শহরের ইটাগাছা, গড়েরকান্দা, কুখরালী ও বাঁকাল বারুইপাড়া এলাকার পানি আসে যে বিলে, সেই বিলের পানি বেরোনোর পথ বন্ধ করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বিগত পাঁচ বছর ধরে চলছে এই অবস্থা।

‎

‎এদিকে শহরের রসুলপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশলাইন সড়কটি পানিতে ডুবে গেছে ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তায় উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডুবে গেছে এ এলাকার অলিগলির রাস্তাগুলো। বাস টার্মিনাল এলাকার অনেক রাস্তা এখন পানির নিচে।

‎

‎এ ছাড়া পলাশপোল এলাকার বেশ কয়েকটি নিম্ন এলাকায় জমেছে পানি। ফলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।

‎

‎শহরের বদ্দীপুর কলোনির বাসিন্দা আলমগীর কবির বলেন, বছরের চার থেকে পাঁচ মাস এলাকায় হাঁটু পানি জমে থাকে। দীর্ঘ দিন পানি আটকে থাকায় চলাচলের রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে। পচা পানির কারণে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ। স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে এলাকাটি। গোসল, পায়খানা, খাওয়ার পানি সংগ্রহে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় শিশুরাও ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না পঁচাপানি ও সাপের ভয়ে।

‎

‎পুরাতন সাতক্ষীরা ডাঙিপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের পূর্বপাশে রামচন্দ্রপুর বিলের পানি উঠেছে উঠানে। সেখানে অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘরে ও উঠানে পানি থই থই করছে। নারী ও শিশুরা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।

‎

‎শহরের কামালনগর ও ইটাগাছা এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। তবে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছে অপরিকল্পিত ঘের মালিকদের। একই সাথে কেউ কেউ দুষছেন পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকেও।

‎

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা নদী ও খালগুলোতে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা গেছে ভিন্ন । খাল ও নদীর তলদেশ না কেটে পাড় উঁচু করে কৃত্রিম গভীরতা দেখানো হয়েছে, খালের প্রশস্ততা কমানো হয়েছে। যার ফলে বর্ষার পানি নদীতে না গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লোকালয়ে জমে থাকছে। এমনকি নদীর পানিও মাঝে মাঝে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।

‎

‎কামালনগর এলাকার জহুরুল বলেন, সরকার যায় সরকার আসে কিন্তু দুর্ভোগ কাটে না । ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল থাকলে আমাদের এই ভোগান্তি পৌঁছাতে হতো না। নামে মাত্র প্রথম শ্রেনির পৌরসভা বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

‎

‎শহরে বিভিন্ন জলাবদ্ধতা এলাকা পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ তিনি জানান, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ঘের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেছি তারা দূরত্ব সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নিচ্ছ আশা করছি দ্রুত সময়ে মধ্যে সদরের জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং আগামীতে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করতে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।

‎

আরও খবর