সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের বালিথা গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের পুত্র ও ওয়ার্ড আ’লীগের সহসভাপতি আব্দুল মুজিদ একযুগেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে স্থানীয় নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, ভয়ভীতি ও গ্রেফতার বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাস্তায় রামদা হাতে নিয়ে প্রতিবাদ দমন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ মুসল্লীদের গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন স্থানীয় মসজিদ কমিটির পক্ষে নুর ইসলাম। মামলা নম্বর ছিল সিআর-১০২০/২৪ (সাত)।
উল্লেখ্য ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন উত্তেজিত জনতা তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে গেট বন্ধ থাকায় তা ব্যর্থ হয়। সেই ঘটনার জের ধরে উল্টো আব্দুল মুজিদ নিজেই চাঁদাবাজি ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সিআর-১৪৪৭/২৪ (সাত) নম্বরে মামলা দায়ের করেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কর্মী রাসেল, এনামুলসহ ৮ জনের নামে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এদিকে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দিনের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা না নেওয়ার কথা থাকলেও, ‘অদৃশ্য’ প্রভাব খাটিয়ে আব্দুল মুজিদের করা মামলায় পুলিশ আদালতে রিপোর্ট দাখিল করে। এতে রাসেল ও এনামুলকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তারা প্রায় একমাস জেলে থাকার পর ৩ জুলাই জামিনে মুক্তি পান।
কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার দিনই আব্দুল মুজিদ নাটকীয়ভাবে নিজের বাড়িতে চকলেট বাজি ফাটিয়ে ‘বোমা হামলার’ সাজানো অভিযোগ তুলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আবারো পুলিশকে হয়রানিতে ব্যস্ত করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিডিএফ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরশাদ আলী বলেন, “আব্দুল মুজিদ একজন মামলাবাজ ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে বহু নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা, পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। কালো টাকার জোরে সে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং আজও গ্রামের মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দমন করতে চাইছে।”
তিনি আরও জানান, এলাকার সচেতন জনসাধারণ অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে