সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অটোরিকশা চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু আশাশুনিতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ জেলে রাসায়নিক স্প্রে করে আশফল বাগান নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতি প্রায় ৪ লাখ টাকা বানিয়াচংয়ে দায়িত্ব নিয়ে দুই চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব, অর্ধশতাধিক আহত খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে হামলা, গৃহবধূর মৃত্যু শ্রীমঙ্গল উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার৭ সদস্যের এ্যাডহক কমিটির অনুমোদন আগরদাড়ীতে শিক্ষককে গণপিটুনি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব আহমদ আলী সরদারের ইন্তেকাল হত্যা না আত্মহত্যা, ধোঁয়াশায় পরিবার শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার আসামি দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি কচুয়ায় মৃত্যুর আড়াই মাস পর কবর থেকে কন্যা শিশুর লাশ উত্তোলন আশাশুনি উপজেলা তরুণ দলের কমিটি অনুমোদন ★নাভিদ সভাপতি, সাইফুল সম্পাদক মাদারীপুরের ডাসারে মাদকসহ ও বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত মোট ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করে,ডাসার থানা পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা শৈলকুপায় কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে কলেজছাত্রী ফারজানার নির্মম মৃত্যু: পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে ক্ষোভ লালপুরের বিলমাড়ীয়া সরকারি ফুটবল মাঠ নিয়ে নতুন স্বপ্ন কচুয়ায় ১০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রায়পুরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় খুলছেন অননুমোদিত ক্লিনিক, ভূয়া ডাক্তার সিনথিয়া দিচ্ছেন গাইনী রোগের জটিল চিকিৎসা ‎ দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরায় ১১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার

বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া আশীর্বাদ না কি অভিশাপ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 09-12-2023 05:18:53 am

◾মো. আকিব হোসাইন : ‘বিশ্বায়ন’ ধারণাটি অতীতে থাকলেও বর্তমানে অর্থাৎ একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বব্যবস্থায় এটি একটি ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয় হিসেবে স্থান লাভ করেছে। তবে এ বিশ্বায়ন প্রক্রিয়াটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং তা এখন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির অবাধ বিস্তৃতির মাধ্যমে। জানা গেছে, মার্শাল ম্যাকলুহান সর্বপ্রথম ‘বিশ্বায়ন’ ধারণাটি প্রদান করেন। তিনি এটার ধারণা দিতে গিয়ে সমগ্র বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করেছিলেন। এতে করে সমগ্র বিশ্বব্যাপী তিনি মানুষের মাঝে সমাদৃত হয়েছিলেন। বিশ্বায়ন বলতে সাধারণত প্রযুক্তির অবাধ বিস্তৃতির মাধ্যমে প্রতিটি দেশের মাঝে আন্ত:যোগাযোগ বৃদ্ধি, সীমানামুক্তকরণ কিংবা আন্তর্জাতিকীকরণকে বুঝায়।


বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এটি এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। এ দেশটিতেও বিশ্বায়নের ব্যাপক হাওয়া লেগেছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও কিঞ্চিৎ পরিবর্তন দৃশ্যত হয়েছে। আন্তর্জাতিকতার এ যুগে বিশ্বের প্রতিটি দেশকে অন্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। যার অন্যতম মাধ্যমে হলো কূটনৈতিক দক্ষতা ও বৈদেশিক নীতিতে শক্তিশালী হওয়া। মনে রাখতে হবে, যে দেশের কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বা বৈদেশিক নীতি যত শক্তিশালী, সে দেশের সাথে বিশ্বের প্রতিটি দেশের উঠাবসাও তত সমৃদ্ধ। যাইহোক, বিশ্বায়নের এ যুগে বাংলাদেশও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। তবে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য কি আশীর্বাদ না কি অভিশাপ? এ প্রশ্ন থেকে যায়। সত্যি কথা বলতে, বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের বাণিজ্যের বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশের তৈরিকৃত পোশাক, কৃষিজাত পণ্য (পাট, চা, ইলিশ, হিমায়িত চিংড়ি ইত্যাদি) ও দক্ষ শ্রম বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এতে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের কদর বাড়ছে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও বিশ্বের উন্নত কিংবা সমৃদ্ধ দেশে বাংলাদেশের তৈরিকৃত দ্রব্য বা সেবা সহজে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন হচ্ছে।


আবার, এ বিশ্বায়ন বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার হলেও এ প্রক্রিয়া আমাদের জন্য অভিশাপ হিসেবেও দাঁড়িয়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিশ্বায়নের ফলে সীমানামুক্তকরণ কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উদারীকরণ ঘটায় উন্নত বিশ্বের পণ্য বা দ্রব্য দেশের বাজারে অনায়াসে প্রবেশ করছে। এতে দেখা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক বাজার উন্নত বিশ্বের দখলে চলে যাচ্ছে। আর দেশের বাজারের বৃহৎ অংশে বড়ো বড়ো দেশ বা বহুজাতিক সংস্থার পণ্যগুলো সহজে সয়লাব করেছে। এতে করে আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের বাজার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিজ দেশে তৈরিকৃত পণ্যের কোনো বাজার তৈরি হচ্ছে না। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিক্রয় কমে যাওয়ায় দেশীয় উদ্যোক্তারা বার বার হতাশ হয়ে যাচ্ছেন। এতে দেখা যায়, অনেকে কর্মসংস্থান হারিয়েছে, শিল্পের উৎপাদন কমে গেছে, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, দেশে বেকারত্ব চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বিদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশের ফলে দেশীয় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশীয় হস্তশিল্পের তৈরিকৃত পণ্যের চাহিদা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে, বিশ্বায়নের ফলে বিদেশি অবৈধ দ্রব্যের আমদানি বাড়ছে। এসব অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ছড়াছড়িও এদেশের বাজার ব্যবস্থায় এক ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে।  


শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বিশ্বায়নের অতি প্রভাব পড়েছে। উন্নত বিশ্বের সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া এখন আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়ায়, আমাদের নিজস্ব ইতিহাস ও সংস্কৃতি ভুলে যাচ্ছি। বিদেশি সংস্কৃতির মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবে দেশীয় সংস্কৃতি তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছে। বিদেশি সংস্কৃতি এদেশের সংস্কৃতিকে গ্রাস করেছে। তাছাড়া এদেশের ধর্মীয় ক্ষেত্রেও বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। ধর্মীয় রীতিনীতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মানুষ এখন ধর্মীয় রীতিনীতি ভুলে গিয়ে আধুনিকতায় ভাসছে। এসব আধুনিকতা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদ বলা হলেও সত্যিকারার্থে এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য মারাত্মক হুমকিসরূপ।


বিশ্বায়ন কিংবা আধুনিকতা যতোটা আমাদের অনূকূলে, তারচেয়ে বেশি আমাদের প্রতিকূলে। কেননা, এর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থায় ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান। আমাদের আচার-আচরণ, রীতি-নীতি, পোশাক-আশাক কিংবা ভাষার ক্ষেত্রে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। যদিও বিশ্বায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হয়েছে, তথ্য-প্রযুক্তির বিস্তৃতি ঘটেছে, ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অধিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, শ্রম দক্ষতা অর্জন হচ্ছে, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার অসীম পরিবর্তন হয়েছে বলা যায়। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য (বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য) তা অনেকটা নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে কাজ করছে। যার ধরুন এদেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্পের ধ্বংসসাধন হয়েছে। বিশ্বের বড়ো বড়ো কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের সাথে কোনোভাবেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। নিজ দেশেই নিজেদের পণ্যের অবাধ প্রবেশে এক ধরণের বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বোপরি বলা যায়, বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, ঠিক তেমনি এর ব্যাপক নেতিবাচক দিকও রয়েছে। আর তা বাংলাদেশের জন্য অনূকূলের চেয়ে প্রতিকূলে বেশি।


মো. আকিব হোসাইন

প্রাবন্ধিক ও সংগঠক

আরও খবর