/ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ইতিবাচক

আশাশুনি সদরের জেলেখালী-দয়ারঘাট মূল বাঁধের কাজ শুরু, সুপেয় পানি, খাদ্য, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও বসবাসের সমস্যা

সচ্চিদানন্দ দে সদয় - আশাশুনি প্রতিনিধি

আপডেট: 04-04-2021 08:08:59

   

আশাশুনি সদরে ভেঙ্গে যাওয়া রিং বাঁধ আটকানো সম্ভব হলেও পাউবো’র মূল বেড়ীবাঁধের নির্মান কাজ সম্ভব হয়নি। ফলে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটার সাথে লড়াই করে চলতে হচ্ছে রিং বাঁধের বাইরে থাকা ৪০/৪৫ পরিবার। তাছাড়া প্লাবিত এলাকায় পানিবন্ধী মানুষের সুপেয় পানি, খাদ্য সংকট, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও বসবাসের সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। উপজেলার আরও ১০/১২ পয়েন্টে বেড়ী বাঁধের অবস্থা শোচনাীয় হয়ে পড়েছে।

আম্ফানের সময়ের তুলনায় নদীতে গত মঙ্গলবার কমপক্ষে ১০-১২ সেঃমিঃ পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৩ মিঃ অধিক উচ্চতায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই রিং বাঁধ টিকতে পারেনি। গত মঙ্গলবার রিং বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় মঙ্গলবার ও বুধবার দু’দিনে রিং বাঁধের ভাঙ্গনকৃত ৬টি পয়েন্ট দিয়ে খোলপেটুয়া নদীর পানি ভেতরে প্রবেশ করে জেলেখালী, দয়ারঘাট, আশাশুনি পূর্ব পাড়া, পশ্চিম পাড়া ও দুর্গাপুর গ্রাম এলাকা প্লাবিত হয়। এতে দেড় শতাধিক মৎস্য ঘের, অসংখ্য সাদা মাছ চাষের পুকুর, বসতবাড়ী, গবাদি পশুসহ আধা পাকা ও কাঁচা-পাকা বোরো ধানের কৃষি জমি নিমজ্জিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার ও এসডিই মাজহারুল ইসলাম জানান, শনিবার থেকে মূল বাঁধে দু’টি পয়েন্টে ২১০ ফুট ভাঙ্গন স্থানে ক্লোজারের বেডের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। রোববার জিও বস্তায় বালি ভরে ছোট ছোট ক্লোজারগুলি চাপান দেওয়া হবে। বড় ক্লোজারটির চাপান দেওয়া হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে।

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের আঘাতে দয়ারঘাট টু জেলেখালি ৫ টি পয়েন্টে পাউবো’র বাঁধ ভেঙ্গে আশাশুনি সদরের ৬ গ্রাম প্লাবিত হয়। সে সময় সরকারিভাবে ও স্বেচ্ছাশ্রমে আশাশুনি বাইপাস সড়ক টু জেলেখালি পাউবো বাঁধ পর্যন্ত ৪০/৪৫ পরিবারের বসতবাড়ী বাইরে রেখে রিং বাঁধ দেয়া হয়। ফলে ওই পরিবারের লোকজনের জোয়ার-ভাটার সাথে লড়াই করে চলতে হচ্ছে। তাদের আধা কাচা ও পাকা বাড়ী বিধস্ত হয়ে বসত ঘর-বাড়ী লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে। অদ্যবদি সে সব পরিবারের মানুষ সরকারিভাবে তেমন কোন সহায়তা পাননি।

গত ৩ দিনে জরুরী ভিত্তিতে পাউবো’র পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ রক্ষার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দিন প্রতি মজুরি হিসাবে ৭ কেজি করে চাউল প্রদান করা হয়। সদর ইউপি চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজার তত্ত্ববধানে পাউবোর কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশ গ্রহনে বৃহস্পতিবার রিং বাঁধের ভাঙ্গনকৃত পয়েন্ট মনিন্দ্র নাথ, রণজিৎ বৈদ্য, শংকর কুমার, নিরান চন্দ্র ও পুলিন কুমারের বাড়ি ও হ্যাঁচারী এলাকা রিং বাঁধ আটকানোর কাজ সম্পন্ন হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন, সহকারী কমিশনান (ভূমি) শাহিন সুলতানা, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, এসডিই মাজহারুল ইসলাম ও পিআইও সোহাগ খাঁন নিয়মিত কাজের তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন।

গত ২০ মে-’২০ আম্ফানের আঘাতে উপজেলার ৩ ইউনিয়নের পুরো বা আংশিক ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ দীর্ঘ ৯ মাস অতিবাহিত হয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নের বিরাটকায় বেড়ীবাঁধ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্লোজার আটকিয়ে জোয়ারের পানি উঠানামা বন্ধ হলেও অজ্ঞাত কারনে আশাশুনি সদরের ছোট ছোট বাঁধ কর্তৃপক্ষের বিধি বিধানের মারপ্যাচে আটকানো যায়নি বা কাজ করা হয়নি। ফলে অতি কষ্টে থাকতে হচ্ছে বানভাষি প্লাবিত এলাকার মানুষের। ফলে এলাকাটি প্লাবিত হওয়ায় সাড়ে ৩শ পরিবারের মানুষ এখন সুপেয় পানি, খাদ্য সংকট, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও বসবাসের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষের কাজ-কর্ম না থাকা, মাছের ঘের ও ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন এ এলাকার মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষ। দ্বিতীয় দফায় ওই এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কোন শুকনা খাবার, চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়নি। সরকারি ভাবে নামকাওয়াস্তে শুক্রবার পরিবার প্রতি মাত্র ৭ কেজি করে চাউল প্রদান করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যান্ত অপ্রতুল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এনজিও লিডার্স’র পক্ষ থেকে সুপেয় পানি সরবরাহ করলেও প্রত্যন্ত প্লাবন কবলিত এলাকার অনেকের কাছে পানি পৌছাচ্ছে না বলে অনেক ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানাগেছে।  

অপরদিকে, উপজেলার প্রতাপনগর, খাজরা, আনুলিয়া, শ্রীউলা ও বড়দল ইউনিয়নে ১৫/১৭ টি  পয়েন্টে বেড়ী বাঁধ ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় এসব বেড়ীবাঁধের উপর দিয়ে পানি উপচে ভেতরে প্রবেশ করার মত চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। হরিষখালী ও কুড়িকাহুনিয়া বাঁধের অবস্থা এখনও খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। আগামী গোনে জোয়ারের সময় বাঁধটি উপচে পড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে পুনরায় কাজ করা না হলে আগামী অমাবশ্যাসহ পরবর্তীতে গোনে এসব বাঁধ উপচে ও ভেঙ্গে পুনরায় গোটা এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। বাঁধ নির্মান কাজ দ্রুত সম্পন্নের পাশাপাশি অসহায় মানুষের দুর্দশা লাঘবে প্রয়োজনীয় সমস্যা সমাধান করে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে তড়িত ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ভূক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল। #  

ক্যাপশান: আশাশুনি সদরে জেলেখালী-দয়ারঘাট ভাঙ্গনকৃত বেড়ীবাঁধ ভাটার সময় ক্লোজারের বেড তৈরির কাজ করা দৃশ্য।

 

Tag

Comments (0)

Comments