টপসয়েল কাটা নীরব এক পরিবেশ বিপর্যয় ইউথ লিডালশীপ সামিটে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া গেলেন অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তিন ইট ভাটাকে অর্থদন্ড আগামী প্রজন্ম সম্ভাবনা নাকি সংকটের অশনি সংকেত? কাজী এহসানুল হক জিহাদ আমার কলম কখনো বিক্রি করবো না : শ্রীমঙ্গলের ইউএনও জিয়াউর রহমান, গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় ঝিনাইগাতীতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ঝিনাইগাতীর দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ঝিনাইগাতীতে অন্তর্ভুক্তিকরণ ও আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কারণে অতিষ্ঠ জনজীবন। শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, নগ্ন ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজি: গ্রেপ্তার ১ আশাশুনিতে ইউনিয়ন পরিষদের জেন্ডার একশন প্ল্যান বিষয়ক কর্মশালা ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৪ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও সংলাপ ইস্যুতে এখনও সিদ্ধান্তহীন ইরান হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু চিলমারীতে "কৃষকদের নিয়ে পার্টনার কংগ্রেসের" কর্মশালা অনুষ্ঠিত শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় থানায় ৩ জনের নামে এজাহার দায়ের: আটক ১ আদমদীঘিতে প্রিপেইড মিটার সংযোগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ঝিনাইগাতীতে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

রংপুর মেডিকেলের রুগী ও তাদের স্বজনদের আহাজারি

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 05-05-2023 12:20:18 pm


শোয়েব হোসেন :

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি বিভাগে ডায়ালাইসিস চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। বাইরে থেকেই সব উপকরণ কিনতে হচ্ছে রোগীদের।  একবার ডায়ালাইসিস করতে কমপক্ষে  তিন হাজার টাকার উপকরণ কিনতে হয়। ফলে মহাবিপাকে  আহাজারিতে রয়েছেন  রোগী ও স্বজনরা।

তাছাড়াও অর্থের অভাবে অনেকের ডায়ালাইসিস বন্ধ রয়েছে। কারও কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
এরই মধ্যে গত ১৫ দিনে ১২ জন কিডনি রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন স্বজনরা। অথচ  হাসপাতালের পরিচালক ইউনুছ আলী জানিয়েছেন,
এত রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তার জানা নেই!

কিডনি রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ডায়ালাইসিস চিকিৎসার যন্ত্র ছাড়া কোনও উপকরণ নেই। সবকিছু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে রোগীদের। এ নিয়ে বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেও কোনও ব্যাবস্থাই হয়নি। উপকরণ কিনতে না পেরে সপ্তাহে দুই বারের পরিবর্তে মাসে একবার ডায়ালাইসিস করছেন দরিদ্র রোগীরা। যারা প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে পারছেন না, তাদের চিকিৎসা চলছে না। এতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে কারও কারও মৃত্যু হচ্ছে বিনা চিকিৎসায়।

ডায়ালাইসিস বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা বলছেন, কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ডায়ালাইসিস সেবা অনেকটা বন্ধ হওয়ার পথে এবং রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে।

সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২য় তলায় অবস্থিত ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে ঘুরে এবং কিডনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে ১২ জনের মৃত্যু ও অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতির তথ্য জানা গেছে।

পঞ্চগড় থেকে রংপুর মেডিকেলে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে এসেছেন আছমা বেগম। তিনি বলেন, 'উপকরণ কিনতে না পারায় আমার ডায়ালাইসিস হচ্ছে না।
একই কথা জানালেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা থেকে আগত রহিমা বেগম ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থেকে ডায়ালাইসিস করতে আগত মনোরঞ্জন বর্মন।

তারা জানিয়েছেন, একজন কিডনি রোগী ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সপ্তাহে দুদিন করে ৪৮ বার ডায়ালাইসিস করাতে পারেন। এটি রোগীদের প্যাকেজ সুবিধা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যাদের দুটো কিডনি বিকল, একমাত্র তাদের সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করানো হয়। আগে সব ধরনের উপকরণ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু, গত ছয় মাস ধরে প্রত্যেক রোগীকে ডায়ালাইসিসের সব উপকরণ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। সব উপকরণ বাইরে থেকে কিনে আনলে তবেই ডায়ালাইসিস করানো হয়। এসব উপকরণ কিনতে ২৭০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করলে ছয় হাজার টাকা লাগে। সে হিসাবে মাসে আটবার ডায়ালাইসিস করতে ২৪ হাজার টাকা লাগে। একজন রোগীর পক্ষে এই ব্যয়ভার বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য ডায়ালাইসিস করাতে পারছেন না তারা।

ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর মেডিকেলে ডায়ালাইসিস করতে আসা সালমা বেগম বলেন, 'ডায়ালাইসিস করাতে পানি, রক্ত, ক্যানুলা, সুঁচ, গজ ও ব্যান্ডেজসহ সবকিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়। সপ্তাহে দুই দিনে খরচ লাগে প্রায় আট হাজার টাকা যা কিনা মাসে ৩৬ হাজার টাকা। এভাবে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।

রংপুর সদরের মমিনপুর থেকে শাহেরা বেগমের কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হাসপাতালে এসেছেন তার ছেলে সফিউল আলম। তিনি জানান, তার মায়ের প্রতিবার ডায়ালাইসিস করাতে তিন-চার হাজার টাকার উপকরণ কিনতে হয়। কিন্তু উপকরণ কিনতে না পারায় মাসে আট বারের পরিবর্তে চার বার করাতে হচ্ছে ডায়ালাইসিস।
এতে তার মায়ের অবস্থার অবনতি ঘটছে।

একই সমস্যার কথা বললেন নীলফামারী থেকে আগত মমতাজ আলী ও দিনাজপুরের হিলি থেকে আগত মোকতার হোসেন। মমতাজ আলী বলেন, 'ইতিমধ্যে শেষ সম্বল একটি করে গরু বিক্রি করে উপকরণ কিনে ডায়ালাইসিস করিয়েছি। এরপর এত টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই আমার।

ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের নার্স মো. রানা বলেন, এখানে ২৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন আছে।  সবগুলোই  সচল কিন্তু উপকরণ সরবরাহ না থাকায় অনেকের পক্ষে ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হচ্ছে না।  আগে রোগীদের জায়গা দিতে পারতাম না। এখন রোগী নেই। যারা আসছেন তারা বাইরে থেকে সব উপকরণ কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, 'ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ডায়ালাইসিস চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নেই।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও সমাধান হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে উপকরণ দিচ্ছে না। এ জন্য রোগীদের সেবা দিতে পারছি না আমরা।

এই খবর প্রচার-প্রকাশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয়  সচেতন ও প্রভাবশালী মহলকে যতোদ্রুত সম্ভব সুষ্ঠু ব্যাবস্থা ও সমাধানের জন্য সার্বিক সহযোগিতা কামনায় দৃষ্টি আকর্ষন করা হলো।

Tag
আরও খবর