শ্যামনগরে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা খামার ডিজাইন বিষয়ক কর্মশালা
রনজিৎ বর্মন শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রে দাতা সংস্থা অক্সফামের সহযোগিতায় বেসরকারি গবেষনা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিক এর আয়োজনে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা খামার ডিজাইন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২৬ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সুন্দরবন উপকূল, অধিক দুর্যোগ প্রবণ ও লবনাক্ত ইউনিয়ন পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, আটুলিয়া ও ঈশ্বরীপুরের জীববৈচিত্র্য বাঁচিয়ে রাখতে ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা তৈরীতে কৃষিপ্রতিবেশীয় চর্চাকারী ১৬ জন কৃষক, যুব, সাংবাদিক, আইক্যাডের ৫ সদস্যের একটি গবেষক দল ও বারসিক কর্মকর্তাবৃন্দ কর্মশালাটিতে অংশগ্রহণ করেন।
উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনে নানাবিধ সমস্যার মধ্যে অন্যতম লবনাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকট, এছাড়াও এর সাথে আছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ক্ষরা, শিলাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, কুয়াশা যা প্রতিনিয়ত কৃষি সহ জীবন-জীবিকার উপর বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। আর এসকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিভিন্ন অভিযোজন কৌশল বা কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা ব্যবহার করে পরিবেশ সুরক্ষার সাথে টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা তৈরী ও আত্মা-নির্ভরশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
ধুমঘাট কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখণ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধক অল্পনা রানী মিস্ত্রির সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মূল আলোচক হিসাবে কৃষি প্রতিবেশীয় খামার ডিজাইনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করেন বৈচিত্র্যময় কৃষিপ্রতিবেশীয় চর্চাকারী অল্পনা রানী মিস্ত্রি ও বারসিক নেত্রকোনা রিসোর্স সেন্টারের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শংকর ম্রং।
এসময় তারা ধুমঘাট কৃষিপ্রতিবেশীয় শিখণ কেন্দ্রের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অভিযোজন কৌশল পরিদর্শন ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা খামার ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
আংশগ্রহনকারী যুব উদ্যোক্তা পানখালী কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা দলের তাপস মন্ডল বলেন," এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাড়ীর প্রতিটি জায়গা সঠিক ব্যবহার ও প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে কিভাবে বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন করা যায় তা জানতে পেরেছি। কিন্তু দুটি মৌসুমে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলেও গ্রীষ্মকালে এলাকায় লবনের প্রভাব বেশি থাকার কারণে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়না। আশাকরি বারসিকের ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে খরা মৌসুমেও ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হবো।"
জেলেখালী কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা দলের সদস্য সমাপ্তি মাঝী বলেন," স্থানীয় বীজ সম্পর্কে আমার কোন ধারনা ছিল না কিন্তু আজ আমার একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। এখন থেকে আমি ও আমার পরিবার প্রত্যেক মৌসুমের বীজ সংরক্ষণ রাখবো এবং অন্যদের উৎসাহিত করবো।"
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উপকূলে কৃষি প্রাণ বৈচিত্র্য সুরক্ষিত ও সংরক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে এ ধরনের কর্মসূচির বিস্তার লাভ করলে সকলের সামগ্রিক চেষ্টায় খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জন সম্ভবপর হবে।
ছবি- শ্যামনগরে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা খামার ডিজাইন বিষয়ক কর্মশালা
২ দিন ৪৯ মিনিট আগে
৪ দিন ১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৪ দিন ৩ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৯ দিন ১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১২ দিন ৩৯ মিনিট আগে
১৩ দিন ৩২ মিনিট আগে