লালপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত ‎ভারত থেকে মোংলা বন্দরে পৌঁছাল চালের সর্বশেষ চালান: ৫০ হাজার টনের চুক্তি সম্পন্ন ক্ষেতলালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮ কমলগঞ্জের শমসেরনগরে কম দামে দোকান ভিটা বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় হয়রানিমুলক মামলা ও হুমকির অভিযোগ ইতালিতে নিজ বাসায় নোয়াখালীর একই পরিবারের তিনজন নিহত দেশের ৬ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর নিজ এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ‎মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশ-চীন চুক্তি সোনাইমুড়ি ও নোয়াখালী সদরে মাদক ব্যবসায়ী আটক লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাইক আরোহীর মৃত্যু মৌলভীবাজারে এনসিপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলীয় নেতাকে অপহরণের অভিযোগ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জেলার দুই নেতাকে দলের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি ও শোকজ গাছা থানার ওসির বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেন জুলাইযোদ্ধা নাগেশ্বরীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইউএনও খোদাদাদ হোসেনের 'জিরো টলারেন্স' ঘোষণা পীরগাছায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে যুব বিভাগের র‌্যালি ও আলোচনা সভা ‎সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম আটক অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি জনগণ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে বারবার বিজয়ী করেছে - মঈন খান শৈলকুপায় 'আগামীর শৈলকুপা মাদকবিরোধী সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট' এর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত বাঘায় সাংসদ আবু সাইদ চাঁদকে মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রী কলেজেরপক্ষ থেকে সংবর্ধনা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ শ্যামনগরে সভাপতি বিষ্ণুপদ ও সম্পাদক কিরণ শংকর নির্বাচিত

বিজিবির ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর ইতিহাস বাংলাদেশের সামরিক ও সীমান্ত রক্ষার ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বিডিআর বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচিত। এর শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর কার্যক্রম ও নামেও এসেছে পরিবর্তন। বিস্তারিতভাবে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) ইতিহাস তুলে ধরা হলো:


ব্রিটিশ শাসনামল (১৭৫৭-১৯৪৭)


বাংলাদেশ রাইফেলসের ইতিহাস শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৭৯৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন ভারতবর্ষে সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী গঠন করে। এটি ছিল বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রাথমিক রূপ।


এরপর ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ফ্রন্টিয়ার গার্ড’ নামে একটি বাহিনী গঠন করে, যার প্রধান কাজ ছিল সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমন করা। সময়ের সাথে সাথে এ বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়তে থাকে।


পাকিস্তান শাসনামল (১৯৪৭-১৯৭১)


১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটার পর ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া বাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন করা হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় 'ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস' (ইপিআর)।


ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) ছিল পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। ইপিআরের প্রধান দায়িত্ব ছিল পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা। পাকিস্তান শাসনামলে ইপিআর দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা (১৯৭১)


১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) এর সদস্যরা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২৫শে মার্চ, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর ইপিআরের সদস্যরা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হন। ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত ইপিআর সদর দপ্তরে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।


ইপিআরের অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এই যুদ্ধে ইপিআরের অনেক সদস্য শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইপিআরের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন এবং বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।


স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় এবং বিডিআর (১৯৭২-২০০৯)


স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ (বিডিআর)। বিডিআরকে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার প্রধান কাজ ছিল দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান রোধ করা, এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা।


বিডিআর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং জরুরি প্রয়োজনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিডিআরের সদস্যরা দেশের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে ব্যাপকভাবে কাজ করে আসছিল।


বিডিআর বিদ্রোহ (২০০৯)


২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক বিদ্রোহ। বিদ্রোহে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। বিদ্রোহের মূল কারণ হিসেবে বিডিআর সদস্যদের বেতন বৈষম্য, পদোন্নতির সুযোগ না পাওয়া এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা উঠে আসে। এই বিদ্রোহ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।


বিদ্রোহটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংকট সৃষ্টি করে এবং এতে দেশের জনগণ ও প্রশাসনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


বিডিআর থেকে বিজিবি (২০১০-বর্তমান)


২০০৯ সালের বিদ্রোহের পর বাংলাদেশ সরকার বিডিআরের ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০১০ সালের ২০ মার্চ "বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অ্যাক্ট, ২০১০" প্রণয়নের মাধ্যমে বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) রাখা হয়।


বিজিবির কাঠামো, কার্যক্রম এবং দায়িত্বের ব্যাপক পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন করা হয়। বাহিনীর কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারির জন্য আধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়।


বিজিবি’র বর্তমান কার্যক্রম


বর্তমানে বিজিবি দেশের সীমান্ত রক্ষায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধ, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি এখন আন্তর্জাতিক মিশনেও অংশগ্রহণ করে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করছে।


উপসংহার


বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পর্যন্ত এর ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং ঘটনাবহুল। বিডিআর দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। যদিও বিডিআর বিদ্রোহ দেশের জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করেছিল, তবে এর পরবর্তী সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিজিবি এখন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য একটি আধুনিক, দক্ষ এবং সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে কাজ করছে।

Tag
আরও খবর