শিক্ষকদের বেতন নিয়ে নতুন নির্দেশনা মাউশির অক্টোবরের ১৪ দিনে রেমিট্যান্স ১৫১ কোটি ডলার ২০ অক্টোবর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীতে চার হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক গ্রেপ্তার পত্নীতলায় বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত ২০২৬ জাবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা চৌমুহনী মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয় বিদায় সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মিরসরাইয়ে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ও ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং বুথ উদ্বোধন চৌমুহনীর কলেজ রোডে দুই দিনের নবজাত কন্যা জীবিত উদ্ধার লাখাইয়ে শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। দিনাজপুরে দূর্গা মন্দির পরিদর্শনে সেক্টর কমান্ডার , কঠোর নিরাপত্তায় বিজিবি আশাশুনিতে মৎস্যজীবী লীগ নেতা গ্রেপ্তার পীরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধে বসতঘরে আগুন, গবাদিপশু ও টাকা লুটের অভিযোগ আক্কেলপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত সিংড়ায় ৫ টি বক অবমুক্ত করলো ইউএনও লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত শামীম হত্যায় পরিকল্পিত হামলার দাবি পরিবারের জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল-অটোরিকশার সংঘর্ষে যুবক নিহত শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী ব্যক্তি কারাগারে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জয়পুরহাটে সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতা

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 18-03-2023 03:04:50 am

প্রতীকী ছবি

◾ মো. হাসিবুল হাসান হিমেল 


একটা সময় সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামগঞ্জে জোনাকির অবাধ বিচরণ চোখে পড়ত। বাঁশবাগানে, ঝোপঝাড়ে অসংখ্য জোনাকির দেখা মিলত, এমনকি শহরের উদ্যানগুলোতেও জোনাকিদের মেলা বসত। বর্তমানে শহরে তো দূরের কথা গ্রামগঞ্জেও জোনাকিদের দেখা পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। তবে কি জোনাকিরা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে? এমন চলতে থাকলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না যে জোনাকি পোকা কী! শুধু যে জোনাকি পোকারাই বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে এমন না। আজকাল সকাল-সন্ধ্যায় পাখিদের কলরবও তেমন একটা শোনা যায় না। পাখিদের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসছে পশু ও উপকারী পোকামাকড়দের সংখ্যাও। ফলে প্রকৃতি তার রূপ হারাতে চলছে।

আর এসব কিছুর জন্যই ব্যাপক অর্থে দায়ী মনুষ্য-সৃষ্ট কর্মকাণ্ড। বর্তমানে ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধনের ফলে পাখি ও পোকামাকড় হারাচ্ছে তাদের বাসস্থান এবং প্রকৃতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রা। এর ফলে আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে পৃথিবীর তাপমাত্রাও, যা ওজোনস্তর ক্ষতিগ্রস্তের অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিককালে পৃথিবীতে বেড়েই চলেছে কলকারখানা ও যানবাহনের সংখ্যা। এগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুকে করে তুলছে বিষাক্ত যা অন্যান্য প্রাণীসহ মানুষের জীবনকেও ফেলছে ঝুঁকির মধ্যে। অতিরিক্ত কলকারখানা নির্মাণের জন্য আবার ভরাট করা হচ্ছে অসংখ্য নদী। নদীরা মারা যাচ্ছে এবং সেইসঙ্গে প্রকৃতিও হারাচ্ছে তার ভারসাম্য। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে আবার সেই নদীতেই। এতে একদিকে যেমন পানি হচ্ছে দূষিত অন্যদিকে মাছগুলোর জীবন হচ্ছে বিপন্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষও।

আজ প্রকৃতির ওপর মানুষের এমন বর্বর আচরণ অর্থাৎ বৃক্ষ নিধন, মাত্রাতিরিক্ত কলকারখানা ও যানবাহন বৃদ্ধি, নদী ভরাট ইত্যাদির জন্য একটি জোনাকি পোকা থেকে শুরু করে পশুপাখি ও মানুষের জীবনও পড়ছে হুমকির সম্মুখে। এমন চলতে থাকলে শিগগিরই পৃথিবী হয়ে উঠবে প্রাণীর বসবাসের অযোগ্য। মানুষ সচেতন না হয়ে প্রকৃতির ওপর এমন নির্মম আচরণ করতে থাকলে মানুষের এই আচরণই একসময় মানুষের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আসুন আমরা নিজেরাই নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে না দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলি। বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করি, মাত্রাতিরিক্ত নদী-ভরাট ও কলকারখানা নির্মাণ বন্ধ করি সেই সঙ্গে কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও কালো ধোঁয়া যাতে প্রকৃতির ক্ষতি করতে না পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজেদের জায়গা থেকে নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যদের সচেতন করে তুলতে পারি তাহলেই আমরা পৃথিবীকে প্রাণীর বসবাসের উপযোগী করে রাখতে পারব। আর রক্ষা পাবে হাজারো জোনাকি পোকা ও পশুপাখি এবং সেইসঙ্গে প্রকৃতি ফিরে পাবে তার আপন সৌন্দর্য। সকাল-সন্ধ্যায় আবার পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাব, সন্ধ্যায় আবার বসবে জোনাকিদের মেলা। এই সুন্দর পৃথিবীটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তো আমাদেরই। আমরা কি পারি না প্রকৃতির সেই হারানো রূপটাকে আবার ফিরিয়ে আনতে? আসুন আমরা আমাদের এই সুন্দর ধরণীকে রক্ষা করতে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করি।


লেখক: মো. হাসিবুল হাসান হিমেল
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।

আরও খবর