◾ শরীফুল ইসলাম : আমার শৈশববেলা অত্যন্ত আনন্দে কেটেছে। ২০০৯ সালে আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের গ্ৰামে জাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিনিয়ত ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হতো। বিশেষত শীতের সকালে পশ্চিম জাওয়ার দশদরুন কান্দায় লুকিয়ে ষাঁড়ের লড়াই হতো, তখন খুব ভোরে উঠেই ষাঁড়ের লড়াই দেখতে যেতাম। বিশেষ করে বর্ষাকালে নির্ধারিত এক দিনে সারাদিন জাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও ষাঁড়ের লড়াই দেখতে প্রচুর মানুষ আগমন ঘটে। পশ্চিম জাওয়ার গ্ৰামে এই দিনে অনেকের বাড়িতে আত্নীয়-স্বজন ষাঁড়ের লড়াই দেখতে বেড়াতে আসতেন। অন্যদিকে সারা রাত বাউল গানের আয়োজন করা হয়।
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার স্বনামধন্য বাউল শিল্পী সালাম সরকার বাউল গান গাইতেন। বাউল গানের পাশাপাশি তিনি বিচ্ছেদ গান, ভাটিয়ালি গান ও মুর্শিদি গান গেয়ে মানুষ কে আনন্দ দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করতো এই দিনে গ্ৰামবাসী অনেক আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। গ্ৰামের সবাই একসাথে বাউল গান উপভোগ করতেন। তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন যথাক্রমে তালজাঙ্গা, রাউতি,ধলা, রাউতি,দামিহা, দিগদাইড় ও তাড়াইল-সাচাইলের বিভিন্ন স্থানে ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এক সময় ষাঁড়ের লড়াইয়ের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা বিখ্যাত ছিল। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার মধ্যে বিভিন্ন গ্ৰামে ষাঁড়ের লড়াই আয়োজন করতো এলাকার মানুষ ।
বিশেষত কেন্দুয়া উপজেলার গগডা,চিরাং ও মোজাফফরপুর গ্ৰামেও ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হতো। বর্তমানে কালের পরিক্রমায় এসব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ হারিয়ে গেছে। বিলুপ্ত হওয়ার পিছনে বেশীরভাগ দায়ী জুয়া খেলা। আগে ষাঁড়ের লড়াইয়ের সময় অনেকে টাকা-পয়সা বাজি ধরতেন। অনেকে বাজিতে হেরে নিঃস্ব হয়ে যেত। যার ফলে প্রায় সময় পুলিশ এসব জুয়ারীদের থানায় ধরে নিয়ে যেত। প্রায় সময় পশ্চিম জাওয়ার গ্ৰামে এ্যাড.শাহারিয়া খাঁন, কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া খোকা ও নূরুল ইসলাম তালুকদারের বাড়ির উঠানে যাত্রা-পালার আয়োজন করা হতো। এলাকার সবাই মিলে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এতে গ্ৰামের কিছু মানুষ যাত্রা-পালায় অভিনয় করতো। বিশেষ করে মোঃ বাদল মেম্বার, মোঃ ফজল মেম্বার, মোঃ সংগ্ৰাম, মোঃ জিয়ার উদ্দিন, মোঃ ফারুক মিয়া, মোঃ আওয়াল, মোঃ ময়না মিয়া ও সাইফুল ইসলাম সহ আরো নাম না জানা অনেকেই এই যাত্রা-পালায় অভিনয় করেছেন। তারা সবাই গ্ৰামবাসী কে আনন্দ দিতে প্রতিনিয়ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেত।
অন্যদিকে পহেলা বৈশাখে দিনের বেলায় গ্রামে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হতো। গ্ৰামের মেলায় নাগর দোলা, শিশুদের মাটির খেলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া যেত। রাতের বেলায় বাউল গানের আসর অনুষ্ঠিত হতো। ঘিমাই শাক দিয়ে রাতে ভাত খাওয়া যা হাওর থেকে কুড়িয়ে পাওয়া যেত। সকালে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়া হতো। বর্তমান নতুন প্রজন্ম আমাদের এই সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত নয়। কেননা কালের আবর্তনে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি সমাজেরই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি রয়েছে।
সমাজে বসবাসকারী মানুষ যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়। কাব্য, সাহিত্য ও শিল্পকলা ইত্যাদি সমাজ জীবন কে প্রভাবিত করে। সংস্কৃতির একটি অংশ হচ্ছে দর্শন, সাহিত্য ও শিল্পকলা এবং লোকাচার। প্রতিটি সমাজে এগুলো আলাদা। মানুষের জীবনকে এগুলো প্রভাবিত করে।
মোঃ শরীফুল ইসলাম, কলাম লেখক ও সংগঠক।
১ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৮ দিন ২ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১৩ দিন ১৫ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১৫ দিন ১৩ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১৬ দিন ৮ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
২৮ দিন ৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে