◾মো. শরিফুল ইসলাম : সম্প্রতি, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ও ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিঃ থেকে আন্দোলন শুরু হয়। সেদিন ঢাকার উত্তরা এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীতে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে ন্যায্য বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলন আরও জোরালো হয়। ১ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি: বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকায় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
গাজীপুরে পুলিশ বক্স ও গাড়িতে এবং একটি ঝুটের গুদামে আগুনের পর ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ২৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। সহিংসতার কারণে এসব এলাকার ৩০০ গার্মেন্টসে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে ৫২৯টি কারখানা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। অন্যদিকে, ফলাফল স্বরূপ, মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুরো শিল্পাঞ্চলেই অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে, যা বর্তমান সরকার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন ।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে একত্র হয়ে সংকট মোকাবেলায় দ্রুত কাজ করতে হবে। গনমাধ্যমে প্রকাশিত, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ পঞ্চম বারের মত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানি কারক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মজুরি হারের তলানিতে বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের ২০২৫ সালের তথ্য মতে নূন্যতম মজুরি, দক্ষিণ কোরিয়া ১,৮৭,৯৪২ টাকা, ভারত ১৭,৭৭৫-৬১,৬৫৩ টাকা, চীন ৩১,০৭৫-৪৩,৮৭৮ টাকা, পাকিস্তান ১৫,২৮৯-২৬,২২৭ টাকা, কম্বোডিয়া ২৫,৮৫৪, ভিয়েতনাম ১৬,৯০৫-২৪,২৩৯ টাকা, শ্রীলঙ্কা ২২,৭৪৭ টাকা ও বাংলাদেশ ১২,৫০০ টাকা। প্রতি বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির ফলে সংসারের পারিবারিক খরচ চালানো সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ কিন্তু সেই অনুযায়ী পাল্লা দিয়ে বাড়েনি জীবনযাত্রার মান। কাজেই নিম্ন আয়ের মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষ জীবন-জীবিকার সন্ধানে শহরে আসে প্রতিনিয়ত । অনেকেই পরিবার ছেড়ে শহরে একা বসবাস করে। শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেকের পরিবার তাদের দিকে চেয়ে আছে, কখন তারা একটু স্বস্তিতে জীবন যাপন করবেন। বর্তমানে মানুষের জীবন ধারা জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে । পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অপরপ্রান্তের দেশসমূহ আজ রাজনৈতিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে পরস্পর প্রভাবিত। তাই সমগ্র পৃথিবীর আজ পরিণত হয়েছে গ্লোবাল ভিলেজে। বৃহত্তর মানব গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য,সামঞ্জস্য, সহভাব ও সহযোগিতার মাধ্যমে এক বৃহত্তর সভ্যতা গড়ে তোলাই সভ্য জগতের আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি, শ্রমিক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা কোন উপেক্ষিত বিষয় নয়, বরং এটা তাদের প্রাপ্য অধিকার।
মোঃ শরীফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।
১ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৭ দিন ১৭ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
১৩ দিন ৫ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৫ দিন ৩ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৫ দিন ২২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
২৭ দিন ১৭ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২৭ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে