যশোরের অভয়নগর উপজেলার পুড়াখালী তা'লিমুল কোরআন মাদ্রাসায় উৎসাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আবেগঘন পরিবেশে ৩২ জন কোমলমতি শিশুর পবিত্র কোরআন শরীফের প্রথম সবক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিশুদের পবিত্র কোরআন শিক্ষার শুভসূচনা ঘিরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ।
পবিত্র কোরআনের প্রথম সবক— আলোর পথে, সত্যের পথে এবং নৈতিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এক মহিমান্বিত অভিযাত্রা। যেসব কোমল কণ্ঠে আজ উচ্চারিত হয়েছে আল্লাহর কালাম, সেই কণ্ঠগুলো একদিন কোরআনের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে পরিবার, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশায় মুখরিত হয়ে ওঠে উপস্থিত সবার হৃদয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আশপাশের বিভিন্ন মসজিদের ইমামসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি শিশুদের এই আনন্দঘন মুহূর্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে
৩২ জন শিশুর কোরআন শিক্ষার এই শুভারম্ভ যেন আগামী দিনের আলোকিত সমাজ গড়ার এক ক্ষুদ্র অথচ মহৎ পদক্ষেপ। প্রতিটি শিশুর হৃদয়ে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন হোক—এমন প্রত্যাশাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল প্রেরণা।
অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, দ্বীনি শিক্ষায় সাফল্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ যেন এই শিশুদের কোরআনের আলোয় আলোকিত করেন, তাদের নেককার মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দান করেন এবং মাদ্রাসাটির দ্বীনি শিক্ষার কার্যক্রমে বরকত দান করেন—এই প্রার্থনায় শেষ হয় আয়োজন।
কোরআনের প্রথম সবকের এই পবিত্র মুহূর্ত শুধু একটি অনুষ্ঠানের স্মৃতি নয়; এটি ৩২টি কোমল হৃদয়ে আলোর বীজ বপনের দিন। সেই বীজ একদিন মহীরুহ হয়ে ছায়া দিক পরিবার, সমাজ ও সমগ্র মানবতার ওপর—এটাই হোক সবার প্রত্যাশা।