রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাসব্যাপী নজরুল বর্ষের সমাপনী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবাদী দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদী হতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর লেখনীতে সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও মুক্তির যে আহ্বান উচ্চারিত হয়েছে, তা আজও সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন নাহার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ মো. নজির হোসেন মোল্লা, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সুলতান নূর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবলু এবং সাবেক সদস্যসচিব মো. নাজিরুল ইসলাম তিতাস।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে মানুষকে অধিকার আদায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন তুলে ধরতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
বক্তারা নজরুলের জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।
৫৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে