বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের তিন বেলার খাবারের অন্যতম ভরসা হলের ডাইনিং। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের ডাইনিংয়ে খাবারের দাম অনেক ক্ষেত্রেই ক্যাম্পাসের বাইরের খাবারের দোকানের কাছাকাছি হলেও মান ও পরিবেশের দিক থেকে রয়েছে বিস্তর ঘাটতি। ফলে তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পাওয়ার যে প্রত্যাশা, তা পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের জীবনে খাবার কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি মৌলিক প্রয়োজন। তাই হলের ডাইনিংয়ে খাবারের জন্য অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা থাকে খাবারটি হবে নিরাপদ, মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু ববির কয়েকটি হলের ডাইনিং নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের দাম অনুযায়ী মান ও পরিবেশ সন্তোষজনক নয়।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে খাবারের ক্ষেত্রে সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভর্তুকির ব্যবস্থা থাকলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই কেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের ডাইনিং পরিচালনায় ভবন ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিলের মতো কিছু ব্যয় না থাকলেও খাবারের দামে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে বাইরের খাবারের দোকানের কাছাকাছি দামেই খাবার কিনতে হচ্ছে তাদের।
সমাজকর্ম বিভাগের ২০২১ থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, বাইরের খাবারের তুলনায় হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান খারাপ। বাইরে তুলনামূলক ভালো হোটেলে যে দামে খাবার পাওয়া যায়, হলের ডাইনিংয়েও প্রায় একই দাম। কিন্তু মানের দিক থেকে হলের খাবার অনেক নিম্নমানের। এছাড়া হলের ডাইনিংয়ে ঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না।
শুধু খাবারের দাম ও মান নয়, ডাইনিংয়ের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। তাদের দাবি, অনেক সময় ডাইনিংয়ের রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের জায়গায় পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা থাকে না। খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। প্রতিদিনের খাবারের প্রধান উৎস হওয়া সত্ত্বেও ডাইনিংয়ে সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১ থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল বলেন, হলের ডাইনিং পরিচালনাকারীদের বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া দিতে হয় না। তারপরও বাইরে এর চেয়ে কম দামে কীভাবে খাবার পাওয়া যাচ্ছে, সেটি প্রশ্নের বিষয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করব, আমাদের হলের খাবারের মান উন্নত করার জন্য।
এদিকে শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও ডাইনিংয়ের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রভোস্ট শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো আমরা পেয়েছি। হলের ডাইনিংয়ের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আমরা কড়া বার্তা দিয়েছি। এছাড়া আমরা আরও ভালো ডাইনিং পরিচালক খুঁজছি। কাউকে উপযুক্ত মনে হলে পরিচালক পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট ড. আবদুল আলিম বছির বলেন, বাইরের খাবারের সঙ্গে হলের খাবারের দাম এক কি না, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে এর একটি কারণ হতে পারে ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি খরচ বাইরের তুলনায় বেশি। আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে খাবার খায় না। তাই ডাইনিংয়ের দাম এর চেয়ে কম রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ডাইনিংয়ে আরও বেশি শিক্ষার্থী খাবার খেলে হয়তো খাবারের দাম কমে আসতে পারে। এরপরও যদি দাম না কমে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, নিয়মিতভাবে খাবারের দাম, মান, পরিমাণ ও ডাইনিংয়ের পরিচ্ছন্নতা তদারকি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খাবারের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
১ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে