চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ০৯ নং কড়ইয়া ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ড পশ্চিম আকানিয়া দারুল কোরআন ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২০ সালে। অত্র মাদ্রাসাটি ১০৬ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা এই গ্রামে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে টিকে থাকার লড়াই করছে। কিন্তু, অর্থ সংকট, ঝূকিপূর্ন টিনের ঘর, শিক্ষকদের বেতন সব মিলিয়ে মাদ্রাসাটি এখন মারাত্মক সংকটে ভূগছে । গত বছর ঘূর্ণিঝড়ে মাদ্রাসাটি মাটিতে পড়ে যায় ও অর্ধেক দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন অবস্থায় রয়েছে । অর্থের অভাবে ঝুকিপূর্ণ টিনের ঘরে ১০০শ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে চলছে পাঠদান। ভাঙা টিনের ঘরে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী মাদ্রাসার শিক্ষকরা মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদিকে, কচুয়া উপজেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও প্রবাসী কচুয়া জাতীয়তাবাদী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান প্রধান বলেন, আমার নিজ গ্রাম পশ্চিম আকানিয়া দারুল কোরআন ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা ক্বারী আব্দুল আজিজ /মৌলভি চান মিয়া দুনিয়ার মায়া ছেড়ে পরকালে চলে গিয়েছেন। উনাদের এই প্রতিষ্ঠান এখন গ্রামের অনেক অসহায়-গরিব পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে থাকে। এই মাদ্রাসাটি টিনের ঘর ভেঙে পড়ার উপক্রম, তবুও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়তই কোরআন তালিম করছেন। এভাবে আর কতদিন চলবে, তা নিয়ে আমরা এলাকাবাসী সবাই উদ্বিগ্ন। এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন আমিসহ সকলে টিনের ভাঙা ঘর আর নড়বড়ের মধ্যে ক্লাসে পাঠদান করতে ভয় লাগে। তারপরও পড়া বন্ধ করি না, কারণ এই মাদ্রাসাই আমাদের এলাকার অজয়পাড়া গ্রামে একমাত্র ভরসার স্থল। দ্রুত এই মাদ্রাসাটি মেরামত হলে আমরা আরো ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারব। আমাদের প্রত্যাশা সবাই একটু একটু করে সহযোগিতা করুক। তাহলেই ১০৬ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখা এই মাদ্রাসাটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অথচ এই গ্রামের প্রতিষ্ঠানটিই গ্রামের ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান ভরসা। এই মাদ্রাসার প্রধান হাফেজ মুফতি মোঃ সোহরাব হোসেন চাঁদপুরী বলেন,ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর মাদ্রাসার পাশে মসজিদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি এই মাদ্রাসার শিক্ষকদের নেই কোনও আবাসন ব্যবস্থার স্থান, নেই কোনও পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা। সময়মতো সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা না পেলে মাদ্রাসাটি টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।
এলাকাবাসীর একই কথা, টিনের ঘর গুলো ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা আছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ খুবই জরুরি। কিন্তু,অর্থের অভাবে ঠিকমতো পরিচালনা করা অসম্ভব হচ্ছে। মাদ্রাসার অবস্থা এতই খারাপ যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিদিন দূর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে টিনের ঘরে প্রবেশ করেন। এখানে নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া উপায় নেই। এক অভিভাবক মোঃ শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে মাদ্রাসার সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। পরিশেষে, এলাকাবাসীর প্রত্যাশা চাঁদপুরের কচুয়ার সাংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এমপি' ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি দিলে কড়ইয়া ইউনিয়নের ১০৬ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করা পশ্চিম আকানিয়া দারুল কোরআন ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা টিকে থাকার সংগ্রামে বাঁচবে এই ঐতিহ্যেবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
৪৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে