সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ী ইউনিয়নের ইন্দিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষককে গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সোমবার (৮ জুন) সকাল প্রায় ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন ইন্দিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অনৈতিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি দ্রুত বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হন। অভিযোগের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিরাপদে হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সেসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন বলে দাবি তাদের। স্থানীয়রা বলেন, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত। সেখানে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়।
অভিভাবকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
২ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে