মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
সড়ক দুর্ঘটনায় দায় কার? সড়কের, নাকি বেপরোয়া চালকের? প্রশ্নটা এখন আর তর্কের বিষয় নয়, বরং বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে এক নির্মম উত্তর খোঁজার বিষয় হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি বহুদিনের। জনসাধারণ বারবার রাস্তায় নেমে সেই দাবি জানালেও প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের চৌকাঠ পেরিয়ে বাস্তবতায় পৌঁছায়নি তা আজও। অবকাঠামোর এই দুর্বলতা যেমন একটি বড় সমস্যা, তেমনি তার চেয়েও ভয়ংকর বাস্তবতা হলো রাস্তা থাকলেও যদি চালকের হাতে নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে সেই রাস্তা আসলে মৃত্যু-ফাঁদ ছাড়া আর কিছু নয়।
আজকাল সড়কে গাড়ি মানেই যেন প্রতিযোগিতা। কে কত দ্রুত মৃত্যু পৌঁছে দিতে পারে তার এক নীরব প্রতিযোগিতা। অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, আর বেপরোয়া চালনার ফলে প্রতিদিন ঝরছে প্রাণ। কখনো পথচারী চাপা পড়ছে, কখনো ছোট যানবাহনকে পিষে দিচ্ছে ভারী বাস-ট্রাক। যাত্রীরা উঠছে গন্তব্যে পৌঁছানোর আশায়, আর নেমে যাচ্ছে নিথর দেহ হয়ে, কিংবা অনেকেই আর নামতেই পারছে না।
কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া লোহাগাড়ার চুনতিতে দুই মারশা পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা যেন এই অব্যবস্থারই ভয়াবহ ফল। কত পরিবার এক নিমিষে নিঃস্ব হয়ে গেল, কত স্বপ্ন থেমে গেল মাঝপথে তার হিসাব কে দেবে? ক্ষতিপূরণ কি সেই হারানো প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে?
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সময় শোনা যায় চালকদের একাংশ নাকি মাদকাসক্ত অবস্থাতেও স্টিয়ারিং হাতে বসে যান। যদি এই অভিযোগের সামান্য সত্যতাও থেকে থাকে, তবে সেটি শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, সরাসরি হত্যার লাইসেন্স নিয়ে রাস্তায় নামার নামান্তর।
তাই প্রশ্নটা আজ স্পষ্ট, দোষ কি শুধুই সড়কের? নাকি সেই হাতগুলোর, যারা স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে নিয়ন্ত্রণের বদলে মৃত্যুকে ডেকে আনে? অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও জরুরি চালকের শৃঙ্খলা, কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
কারণ রাস্তা যতই উন্নত হোক, যদি চালকের মনোভাব বেপরোয়া থাকে, তাহলে সে রাস্তা উন্নয়নের নয়, বরং শোকের মিছিলের নাম হয়ে উঠবে।
৫৯ মিনিট আগে
৫৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে