বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী সাকিব মিয়া দ্বিতীয় বর্ষে পাঁচটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে আবারও আমরণ অনশন শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে তিনি এ অনশনে বসেন।
এর আগে একই দাবিতে গত ১৬ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অনশন শুরু করেছিলেন সাকিব মিয়া। সেদিন মধ্যরাতে উপাচার্যের আশ্বাসে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
সাকিব মিয়া অভিযোগ করে জানান,আমাকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের দোহাই দিয়ে রাখছে। ঐটাই (অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল) নাকি ডিসিশন দিবে। কিন্তু তার কোনো ডেট এই ঠিক নাই, এনিয়ে ৩বার ডেট পরিবর্তন হইছে। আমার আগামীকাল ফাইনাল এক্সাম, আর এদিকে ২০দিন হয়ে গেছে , অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের কোনো খোজ খবর নাই। আজকে আমার ফরম ফিলাপ করাবো আমি উঠবো, না হয় আমি উঠবো না।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন থাকায় গত ৩০এপ্রিল অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ২৮ই এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ সংবাদ সম্মেলনে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভাটি বর্জন ঘোষনা করেন। তবে ৮ই মে সাভটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে।
সাকিব মিয়া ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দ্বিতীয় বর্ষে ৫টি বিষয় অকৃতকার্য হয়ে ড্রপ-আউট হন। এর আগেও তিনি প্রথম বর্ষে ৩টি বিষয় অকৃতকার্য হয়েছিলেন।
সেসময় সাকিব মিয়া জানিয়ে ছিলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া কারণে তাকে পাঁচ বিষয়ে ইচ্ছা কৃত ভাবে বিভাগের চেয়ারম্যান একাধিক বিষয়ে ফেল করিয়ে দিয়েছেন।
তখন সাকিব মিয়া ২টি দাবির কথা বলেন,১. আমাকে তৃতীয় বর্ষে প্রমোট চাই।২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন চাই।
এবিষয়ে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় বলে ছিলেন,শিক্ষার্থী যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। তার খাতার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বাহিরে দু'দফায় খাতাগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার তিনটি অংশ লিখিত (তত্ত্বীয়), ব্যবহারিক ও মৌখিক; প্রত্যেক অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হয়। শিক্ষার্থী ২য় বর্ষের ১৩টি বিষয়ের মধ্যে ৫টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, যেগুলো সবই তত্ত্বীয় অংশে। খাতায় প্রয়োজনীয় উত্তর না থাকলে শিক্ষকদের পক্ষে নম্বর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একই বিষয়গুলোর ভাইভা ও ল্যাব পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন, যেখানে শিক্ষকদের মূল্যায়নের সুযোগ থাকে।
তিনি আরো বলেন, ওনার খাতা ভিসি স্যার ও দেখেছেন। এবং এর আগেও তিনি প্রথম বর্ষে দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন এবং পরবর্তীতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়েও সেসব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
চেয়ারম্যান ড. ধীমান কুমার রায় জানান,শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিভাগের কাছে এসেছেন এবং উপাচার্যের কাছেও গিয়েছেন। তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীর কোনো আপত্তি থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যও তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে তিনি ভিন্ন পথ অবলম্বনের চেষ্টা করছেন, যা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সম্ভব নয়।
২ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৫ দিন ৫ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৯ দিন ৯ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১২ দিন ৫ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১২ দিন ৮ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১৬ দিন ১১ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
১৬ দিন ১১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১৭ দিন ৫ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে