কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাড়ি ভিটা রক্ষা দাবীতে বাইপাস সড়কের সংযোগস্হল পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবারও আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনকারীরা বাইপাসের জন্য সড়ক বিভাগের স্হান নির্ধারণে প্রাথমিকভাবে এলাকার জনগনের মতামত গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন।
গত ২০২৫ সালের ২৫ আগষ্ট আকস্মিক ভাবে "উলিপুর হেলিপ্যাড মোড় থেকে উলিপুর আমিন মোড় পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ " এর জন্য জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কর্তৃক আকস্মিক ভাবে ৪ ধারা নোটিশ দেয়া হলে আমিন মোড় থেকে উত্তরের লোকজনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বসতবাড়ি জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল দোকান -পাট হারানোর আশংকায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ বরাবর আবেদন করেন। আবেদন তারা উল্লেখ করেন, বাইপাসের এই সংযোগস্হলটি শহর থেকে একেবারে কাছে এবং জনবহুল। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি হয়। জনগণের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে এলাকাটি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জাকির হোসেনকে দায়িত্ব প্রদান করলে তিনি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ ও পরে ড্রোন ব্যবহার করে তদন্ত সম্পন্ন করেন।
আমিন মোড় এলাকার ভুক্তভোগী জনগণের দাবী বাইপাস সড়কের স্হান নির্ধারণে প্রাথমিক যাচাইয়ে এলাকার জনগনের মতামত না নিয়ে গোপনে প্রস্তাবনা দিয়ে সড়ক বিভাগের একটি সিন্ডিকেট তাদের স্বার্থ বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমিন মোড়ের একেবারে কাছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা একটি পতিত জমি কিনে ভরাট করে নিম্নমানের ইট অল্প পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে। আকস্মিক ভাবে তা ধ্বসে পড়লে পূণঃ নির্মান করা হয়। এভাবে তারা প্রস্তাবিত সড়কের নকশা ধরে পাশাপাশি তিনটি পয়েন্টে নিম্ন মানের অবকাঠামো নির্মাণ করে। সড়ক বিভাগের আব্দুর রাজ্জাক, দেলোয়ার ও রণি নামের তিন ব্যক্তি এ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে আবেদনে দাবী করা হয়েছে।
তদন্ত কাজের সময় এ সিন্ডিকেটের কোন না কোন সদস্য সক্রিয় থাকেন। তারা আরো জানান, বাইপাস সড়কের সংযোগস্হল দেশের অন্যন্য স্হানে বাজার থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হলেও এ স্হানে সিন্ডিকেটের স্বার্থ বাস্তবায়নে তা মানা হয়নি। উলিপুর সদরের কাছে আমিন মোড় এলাকা। এখানকার স্থানীয় জনগণের বসতভিটা, ল জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য বেশকিছু দোকানপাট, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও অফিস ও ৭০ টির মত পরিবারের বাড়ীঘর আছে। এখানে বাইপাস সড়কের সংযোগ দেয়া হলে দোকান পাট, বাড়িঘর হারিয়ে এসব লোকজন দরিদ্র সীমার নীচে চলে যাবে ও গৃহহীন হবে। এ ছাড়াও এনজিওর অফিস চলাকালীন সময়ে জনগন ও বিদ্যালয় গামী শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার সময় এ এলাকাটি জনসমূদ্রে পরিণত হয়। ব্যস্ততম এ এলাকাটিতে বাইপাসের সংযোগস্হল করা হলে প্রতিদিন মারাত্মক দূর্ঘটনায় অনেক মূল্যবান প্রাণ চলে যাবে বলে অভিজ্ঞমহল আশংকা করেছেন। উলিপুর পৌর এলাকায় যানজট নিরসনে ৬৮ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা বাজেটের ৩.২ কিমি বাইপাস কতটুকু কাজে আসবে এ নিয়ে এলাকাবাসী সন্দিহান।
সব কিছু বিবেচনা করে বাইপাসের সংযোগস্হল পরিবর্তন করার জন্য এলাকাবাসী সরকারের নীতি নির্ধারনী কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। #