সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা চিলমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আহত ২জন, প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত। জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিক সমিতির মতবিনিময় জাতীয় চা দিবসে উৎপাদনে শ্রেষ্ঠ কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান, শনিবার শ্রীমঙ্গলে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবসে পুরস্কার পাচ্ছেন মহসিন মিয়া মধু লোহাগাড়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি আটক ‎সুন্দরবনের নিরাপত্তা সুসংহত করতে কোস্ট গার্ডের কঠোর হুঁশিয়ারি ও অভিযানের নতুন মাত্রা বেগমগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রাম ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসে সংঘর্ষে চালক নিহত জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বরিশালে ২৬ মামলার আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার বিপুল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নোবিপ্রবি উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু পবিপ্রবি এএনএসভিএম অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় বানিয়াচংয়ে নজরুল বর্ষ উদযাপন বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে উলিপুর ফুটেছে কদম ফুল মিষ্টি গন্ধে বিমোহিত পথিক দক্ষিণ নড়াইল শিমুলিয়া কলেজে সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম কাজী তাকিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান শাহেদ হাছান আর নেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চার শিক্ষার্থী পেল শিক্ষা জীবন বদলে দেওয়ার হুইল চেয়ার ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে আয়নাপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত স্বামীর সঙ্গে অভিমান, গোয়ালন্দে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গোয়ালন্দে প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গনহত্যা দিবস পালিত, অর্থাভাবে থেমে আছে ভাস্কর্য নির্মান কাজ

গোয়ালন্দে প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গনহত্যা দিবস পালিত, অর্থাভাবে থেমে আছে ভাস্কর্য নির্মান কাজ আজ ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গণহত্যা দিবস। মুক্তিকামী জনতা এই দিন প্রিয় গোয়ালন্দকে রক্ষা করতে যার যা ছিল তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করেছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল ভোরে মানিকগঞ্জের আরিচাঘাট থেকে একটি গানবোট ও একটি কে-টাইপ ফেরি বোঝাই করে পাকবাহিনী প্রথম এসে নামে পদ্মাপারের গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর কামারডাঙ্গি এলাকায়। সেখান থেকে পাক বাহিনী বাহাদুরপুর এলাকায় এগিয়ে এলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইপিআর, আনসার ও মুক্তিবাহিনী হালকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় হানাদারদের বুলেটে প্রথম শহিদ হন আনসার কমান্ডার ফকির মহিউদ্দিন। এছাড়া শহিদ হন হাবিল শেখ ও ছবেদ আলী মণ্ডল নামে আরও দুই ব্যক্তি এবং গুলিবিদ্ধ হন অনেকে। তবে পাক বাহিনীর ভারি অস্ত্র-সস্ত্রের সামনে প্রতিরোধ যুদ্ধ দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়নি। এরপর পাকবাহিনী ঘাটে নেমে পার্শ্ববর্তী বালিয়াডাঙা গ্রামে ঢুকে নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেখানে হানাদারদের বুলেটে শহিদ হন ওই গ্রামের স্বাধীনতাকামী অনেক নিরীহ নারী-পুরুষ। গনহত্যার শিকার নারী-পুরুষরা হলেন ছবেদ আলী, হাবিল মন্ডল, কবি তোফাজ্জল হোসেন, জিন্দার আলী মৃধা, নায়েব আলী বেপারী, মতিয়ার রহমান, জয়নদ্দিন ফকির, কাদের মোল্লা, হামেদ শেখ, কানাই শেখ, ফুলবরু বেগম, মোলায়েম সরদার, বরুজান বিবি, আমজাদ হোসেন, মাধব বৈরাগী, আহাম্মদ আলী মন্ডল, খোদেজা বেগম, করিম মোল্যা, আমোদ শেখ, কুরবান শেখ, মোকসেদ শেখ, নিশিকান্ত রায়, মাছেম শেখ, ধলাবরু বেগম, আলেয়া খাতুন, বাহেজ পাগলাসহ নাম না জানা আরো অনেকে। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে গনহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শেষে পাক বাহিনী গোয়ালন্দ বাজারে প্রবেশ করে আগুন দিয়ে বাজারের দোকানপাট পুড়িয়ে দেয়। পুড়িয়ে দেয় আনছারদের ক্লাব ঘরটিও। এভাবে আনছার ক্লাবটি পুড়িয়ে দেয়ায় আনছারদের সমস্ত ডকুমেন্টস ধ্বংস হয়ে যায়। পাশাপাশি তাদের কমান্ডার ফকির মহিউদ্দিন শহীদ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তীতে আনছার বাহিনীর অনেক প্রতিরোধ যোদ্ধা পরবর্তীতে তথ্য প্রমানের অভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। এদিকে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ২১ এপ্রিল প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গনহত্যা দিবসটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া ও আলোচনা সভার মাধ্যমে পালন করেছেন এলাকাবাসী। বাহাদুরপুর গ্রামে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৭ অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল বাহাদুর। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন প্রতিরোধ যুদ্ধের যোদ্ধা, সরকারী গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক  অধ্যক্ষ খোন্দকার আব্দুল মুহিত, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, অবসরপ্রাপ্ত পিটিআই ইন্সট্রাক্টর মফিজুল ইসলাম তানসেন, উজানচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও  গোয়ালন্দ মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য পরিষদের সদস্য সেলিম খান সলিম, সদস্য জিয়াউল হক বাবলু,  অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা বাবলু বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গনহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও এলাকাবাসী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনটি করেন শেখ নাজিম উদ্দিন রাসেল। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল বাহাদুর বলেন, ২১ এপ্রিলের ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে তারা পারিবারিকভাবে প্রতিরোধযুদ্ধ এলাকায় জমি দান করেছেন। কয়েক বছর আগে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের অর্থায়নে এখানে একটি ভাস্কর্য নির্মানের কিছুটা কাজ করা হয়। কিন্তু নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ভাস্কর্যটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি এ বিষয়ে স্হানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
আরও খবর