স্বামীর সঙ্গে অভিমান, গোয়ালন্দে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
স্বামীর সঙ্গে অভিমান, গোয়ালন্দে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে স্বামীর সঙ্গে অভিমান ও মোবাইল ফোনে কথাকাটাকাটির জেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিল মণ্ডলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম মোমেনা খাতুন (২০)। তিনি ওই এলাকার সালাম খানের মেয়ে এবং সৌদি প্রবাসী মো. মামুন শেখের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে পারিবারিক অভিমানকে কেন্দ্র করে মোমেনা খাতুন স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকে স্বামী মামুন শেখের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। বুধবার গভীর রাতেও তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কথা হয় বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা মধ্যে যেকোনো সময়ে মোমেনা খাতুন নিজ কক্ষে ঘরের আড়ার সঙ্গে নিজের ব্যবহৃত ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
ভোর আনুমানিক ৪টার সময় তার ছোট সন্তান কান্নাকাটি শুরু করলে পাশের কক্ষে থাকা বড় ভাইয়ের স্ত্রী তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখার চেষ্টা করেও তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকেন। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মোমেনাকে ওড়নার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ওড়না কেটে তাকে নিচে নামিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই মো. ফারুক হোসেন (পিপিএম) ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।