অনলাইন জুয়ার নেশায় তরুণ প্রজন্ম; পিছিয়ে নেই বালিয়াডাঙ্গী তাড়াইল হাসপাতালের সংকট ও উত্তরণের উপায় এআই লিখছে কবিতা-গল্প, তাহলে লেখকদের ভবিষ্যৎ কী? প্রয়াণ দিবসে জীবনানন্দ স্মরণ ‘স্রোতের’ যে পায় সে পায় - আহসান হাবিব বাঘার "৯০" এর বন্ধুদের তেতুলিয়া বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন। চলমান শ্রমিক বিক্ষোভে ৫ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে: বিজিএমইএ নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ ৪ নভেম্বর থেকে সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ কমবে: পেট্রোবাংলা দুবলার চরে পাঁচ মাসের শুঁটকি মৌসুম শুরু, ১০ হাজার জেলের কর্মযজ্ঞ পোশাক খাতের অস্থিরতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবীনগরে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতরণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ মিরসরাইয়ে জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠকের সম্মাননা পেলেন গোলাম মর্তুজা জাতীয় যুব দিবসে মিরসরাইয়ের ফয়সাল আলম পেলেন শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার সম্মাননা ইসলামপুরে যমুনা নদীতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ পীরগাছায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ র‌্যালি, আলোচনা সভা জয়পুরহাটে এসআরবির অভিযানে ইয়াবা ও টাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী মিলন গ্রেপ্তার

আজানের সময় কথা বলা যাবে?

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 02-08-2026 12:03:41 pm

আজানের ধ্বনি মুসলিমদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নামাজের এক মহিমান্বিত আহবান। এ আহবান শুনে একজন মুমিনের অন্তর আল্লাহর স্মরণে সাড়া দেয় এবং নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আমাদের সমাজে আজানের সময় কথা বলা নিয়ে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ মনে করেন, আজানের সময় কথা বললে গুনাহ হয়, আবার কেউ বলেন এতে বহু বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে কি কুরআন ও সহিহ হাদিসে কোনো প্রমাণ রয়েছে? একজন মুসলিমের জন্য আবেগ বা প্রচলিত কথার পরিবর্তে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি জানা জরুরি।


আজানের জবাব দেয়া সুন্নত


রাসুলুল্লাহ (সা.) আজান শুনলে মুয়াজ্জিনের কথার অনুরূপ জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর আহবানে সাড়া দেয় এবং সালাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে।


إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ


অর্থ: তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও অনুরূপ বলো। (বুখারি ৬১১, মুসলিম ৩৮৩)


আজানের সময় কথা বলা কি গুনাহ?

কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো দলিল নেই, যেখানে বলা হয়েছে যে আজানের সময় কথা বলা গুনাহ। তাই এ বিষয়ে গুনাহের ফতোয়া দেয়া সঠিক নয়। তবে আজানের জবাব দেয়া একটি সুন্নত আমল। কেউ যদি বিনা কারণে এ সুন্নত ছেড়ে দেয়, তাহলে সে সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু শুধু এ কারণে তাকে গুনাহগার বলা যাবে না।


মহান আল্লাহ বলেন—يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ


অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও রাসুল যখন তোমাদের এমন বিষয়ের দিকে আহবান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা সেই আহবানে সাড়া দাও। (সুরা আল-আনফাল: আয়াত ২৪)


এ আয়াতের আলোকে আজানের আহ্বান শুনে সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।


আজানের সময় কী করা উত্তম

আজানের সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বন্ধ রাখা, মনোযোগ দিয়ে আজান শোনা এবং মুয়াজ্জিনের জবাব দেয়া সুন্নত ও উত্তম আমল। আজান শেষ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) শেখানো দোয়া পড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।


আজানের পরের দোয়া-اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ


উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদাল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলা ওয়াবআ ছহু মাক্বামাম মাহমুদাল্লাজি ওয়া আদতাহ।


অর্থ: হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! আপনি মুহাম্মদ (সা.)-কে ওসিলা ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দান করুন এবং তাকে সে প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। (বুখারি ৬১৪)


জরুরি প্রয়োজনে কথা বলা বা কাজ করা

যদি কেউ চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তা, জরুরি ফোনকল, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা এমন কোনো প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে তিনি সে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। ইসলাম মানুষের ওপর অযথা কঠোরতা আরোপ করে না। একইভাবে কোনো দ্বীনি আলোচনা, শিক্ষাদান বা প্রয়োজনীয় কাজ চলাকালেও পরিস্থিতি অনুযায়ী আজানের জবাব দেয়া উত্তম; তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়—এ কথা কি সত্য?

সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা হলো— আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়, অথবা আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যু হবে না।

এ ধরনের বক্তব্যের কুরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো প্রমাণ নেই। নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস ও আলেমরা এসব কথাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই কোনো বিষয়ে দলিল ছাড়া ভয়ভীতি ছড়ানো বা ধর্মের নামে মনগড়া কথা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন— قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ


অর্থ: বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আসো। (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১১১)


আজানের নময় একজন মুসলিমের করণীয়

আজান শুনলে অপ্রয়োজনীয় কথা বন্ধ রাখা।

মুয়াজ্জিনের কথার অনুরূপ জবাব দেয়া।

আজানের পরে দরুদ ও দোয়া পড়া।

অজু করে সময়মতো সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নেয়া।

ধর্মীয় বিষয়ে কেবল কুরআন, সহিহ হাদিস ও বিশ্বস্ত আলেমদের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করা।

আজানের সময় কথা বলা গুনাহ—এমন কোনো সহিহ দলিল কুরআন বা সুন্নাহতে নেই। তবে আজান ইসলামের অন্যতম মহান নিদর্শন। তাই এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, মনোযোগ দিয়ে শোনা, মুয়াজ্জিনের জবাব দেয়া এবং সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা একজন মুমিনের জন্য উত্তম সুন্নত। ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত গল্প বা ভিত্তিহীন বক্তব্যের পরিবর্তে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করাই নিরাপদ পথ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন এবং তার আহবানে আন্তরিকভাবে সাড়া দেয়ার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

আরও খবর


6ab608d582305-250926113829.webp
জুমার দিন যে আমলগুলো ভুলবেন না

৩৭ দিন ১৩ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে


deshchitro-6ab375a3cd97b-230926124555.webp
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কি ও কেন

৩৯ দিন ১২ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে



6a6eddbd05f6d-020826120341.webp
আজানের সময় কথা বলা যাবে?

৯১ দিন ১২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে