আইন কি সবার জন্য সমান—এমন প্রশ্ন এখন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ট্রাফিক পুলিশের মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বিকেলে কালিগঞ্জ থানা ও প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ট্রাফিক পুলিশের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্ট চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের চোখে পড়ে বৈষম্যমূলক আচরণের একাধিক চিত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোবাইল কোর্ট চলাকালে সাধারণ জনগণ, ছাত্র, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে হেলমেট না থাকা, মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্রে সামান্য ঘাটতি কিংবা ছোটখাটো ত্রুটির জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মামলা ও জরিমানা করা হয়। এতে অনেক সাধারণ যানবাহন চালক হয়রানির শিকার হন।
অন্যদিকে, একই সময়ে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি হেলমেট না পরা এবং মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ‘জামাই আদরে’ ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যদি আইন সবার জন্য সমান হয়, তাহলে কেন একই অপরাধে এক শ্রেণির মানুষকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে আর সাধারণ মানুষকে জরিমানা ও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ধরনের দ্বৈত নীতি ও বৈষম্যমূলক আচরণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত না হলে জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা কমে যাবে। মোবাইল কোর্টের নামে বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় দ্বৈত নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও উপজেলাবাসী। একই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
৯ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে