শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পীরগাছাকে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু গোয়ালন্দে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু লাখাইয়ে পরিদর্শিকা সুচিত্রার দুর্নীতি অনিয়মের তদন্তে নাটকীয়তা, ভুক্তভোগীদের কথা না শুনেই সটকে পড়ল তদন্ত কমিটি। জাবিপ্রবিতে সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে ‘বেসিক জার্নালিজম, মোজো ও এআই রিপোর্টিং’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত চিলমারীতে "শিক্ষার্থী-অবিভাবক সমাবেশ ও পুরষ্কার" বিতরণ ‎সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধে প্রাণীদের মধ্যে স্বস্তি, বেড়েছে বিচরণ ক্ষেত্র *র‌্যাব-১৫ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ এক রোহিঙ্গা যুবক গ্রেফতার।* ঈশ্বরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি ‎ ‎মোংলায় প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষর জাল করে তদবির বাণিজ্য, গ্রেফতার ১ ‎ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান ৫ আগস্ট ছুটি নেই যাদের সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে সতর্কতার নির্দেশ পীরগাছায় ৫ আগস্টের ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল সফল করতে প্রস্তুতিমূলক সভা দৈহিক ও নৈতিক চরিত্র গঠনে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই- এমপি পিনাক চৌধুরী বেগমগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে লেখকদের নবনির্মিত বসার ঘর উদ্বোধন মাত্র ১০ মাসে কোরআনের হাফেজ ৯ বছরের আরহাম ভূঁইয়া বুটেক্সে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কদভানু তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শ্যামনগরে ডিলার মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি করায় মোবাইল কোর্টে জরিমানা

‎সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

‎মোংলা প্রতিনিধিঃ


‎সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা মাসুম মৃধাকে (২৩) অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন ধানখালী এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তিনটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


‎এছাড়াও জিম্মি পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়িও উদ্ধার করা হয়।


‎গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত এবং জব্দ আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান।


‎তিনি জানিয়েছেন, ‘সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে সুন্দরবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও জলোচ্ছ্বাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


‎তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। ডাকাত চক্র সমুহের কর্মকাণ্ডে পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সূচনালগ্ন থেকে ডাকাতের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে।’


‎জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দুজন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।


‎রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

‎এ সময় ডাকাত চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা দৃধা (৫৫)-কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।


‎কোস্ট গার্ড গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।


‎কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী এবং রাঙ্গা বাহিনীকি সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একাধিক ডাকাত সহযোগী আটক করায় ছোট সুমন বাহিনী, ছোটন বাহিনী এবং কাজল মুন্না বাহিনী ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনীকে দমনে কোস্ট গার্ড টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।


‎কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।’

আরও খবর