যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, বসুন্দিয়া ও অভয়নগর) সংসদীয় আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক গুঞ্জন ও নানা অনিশ্চয়তার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মতিয়ার রহমান ফারাজিকে 'সাপোর্টিং নমিনেশন' বা বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এই আসনের সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের একমাত্র ভরসা ও প্রাণের দাবি—ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন।দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রথমে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেনকেই ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল।কিন্তু ঋণখেলাপি সংক্রান্ত (সিআইবি) জটিলতার কারণে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন পত্রটি প্রাথমিকভাবে বাতিল করেন। বর্তমানে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আইয়ুব হোসেনের সমর্থকদের বিশ্বাস, আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি দ্রুতই তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন এবং আসন্ন নির্বাচনে যশোর-৪ আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দেবেন।২৭ বছরের ত্যাগ ও তিল তিল করে গড়া সংগঠন।স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত ২৬-২৭ বছর ধরে টিএস আইয়ুব হোসেন রাজনীতির ময়দানে অবিচল থেকেছেন। দল করতে গিয়ে তিনি তার উপার্জিত অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছুই ব্যয় করেছেন। আজ তিনি ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার দেনাদার হয়েছেন শুধুমাত্র নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে গিয়ে।
বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের সাধারণ মানুষের বক্তব্য, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে তাদের জামিন করা, নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত খরচ বহন করা এবং জেলে থাকা নেতাকর্মীদের পরিবারের নিয়মিত বাজার-সদাই করে দিয়ে তিনি এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।অভিযোগ উঠেছে, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল খালেক বিশ্বাসের পর আইয়ুব হোসেনই দলটিকে সুসংগঠিত করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই দলের ভেতর থেকে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে কুৎসা ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। নেতাকর্মীদের দাবি, যাদের আইয়ুব হোসেন মেয়র বা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তাদের একটি অংশই আজ তার মনোনয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রতি নির্বাচনে নতুন নতুন প্রার্থী সামনে এনে রাজনৈতিক ব্যবসা চাঙ্গা করতে চায় বলে স্থানীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।টিএস আইয়ুব হোসেনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া ভোটারদের মধ্যে অভূতপূর্ব আবেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় অনেক সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতার জন্য রোজা রাখছেন এবং হাঁস, মুরগি ও গবাদি পশু মান্নত করছেন। তাদের প্রত্যাশা, আল্লাহর রহমতে আইয়ুব হোসেনই ফিরে আসবেন এবং ধানের শীষের হাল ধরবেন।ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব হোসেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভেঙে না পড়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, সব প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা আইয়ুব হোসেনকে ছাড়া এই আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হবে। তিনি প্রার্থী হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে।এখন সবার নজর উচ্চ আদালতের দিকে—সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে যশোর-৪ আসনের ধানের শীষের চূড়ান্ত ভাগ্য।
৬ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে