মুন্সি শাহাব চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় হঠাৎ করেই যেন শীত তার সমস্ত শক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে। কয়েক দিন ধরে অব্যাহত হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা আর সূর্যের অনুপস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভোর নামলেই চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার সাদা পর্দায়, অনেক বেলা গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলছে না। আর সূর্য দেখা দিলেও তার তাপ শীতের তীব্রতা কমাতে পারছে না।
সকালের দিকে রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের কাঁপতে কাঁপতে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ। তীব্র শীতের কারণে মাঠে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে, অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এর প্রভাব পড়ছে তাঁদের দৈনন্দিন আয়-রোজগারে।
গ্রামীণ এলাকায় শীতের প্রকোপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীত নিবারণের জন্য কোথাও খড়কুটো, কোথাও শুকনো পাতা কিংবা কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন মানুষজন। শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলো পড়েছে চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা বেশ উদ্বেগজনক। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও শীতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারছে না। কেউ কেউ ভারী শীতবস্ত্র পরে স্কুলে গেলেও দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু পর্যাপ্ত শীতের কাপড়ের অভাবে বাড়িতেই থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাজারগুলোতেও শীতের ছাপ স্পষ্ট। সকালে দোকানপাট খুলতে দেরি হচ্ছে, ক্রেতার উপস্থিতিও কম। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছে না। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ে, চারপাশ যেন নীরব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শীত এলেও এবার শীতের তীব্রতা কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শীত যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার জনপদে এখন সবার একটাই প্রত্যাশা—এই শীতের দিনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনে একটু উষ্ণতা ও হাসি ফিরিয়ে আনা।
৩ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২ মিনিট আগে