জামালপুরের ইসলামপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশসহ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এজাহারভুক্ত দুর্ধর্ষ ও দাগি আসামিদের দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার হচ্ছে না। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় হত্যা ও ধর্ষণসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য হচ্ছে না উদঘাটন।
তবে থানা-পুলিশের দাবি, আসামি গ্রেপ্তারে যথাযথভাবেই কাজ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কাজও হয়েছে আশানুরূপ অগ্রগতি।
ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮অক্টোবর) সকালে উপজেলার গুঠাইল এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। এঘটনায় ওইদিন রাতে পার্শ্ববর্তী বেলগাছা ইউনিয়নের শিলদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম উল বাশারকে (৪৫) আসামি দিয়ে ইসলামপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা।
রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে ওই মামলার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে এলাকাবাসী। ইসলামপুর সরকারি কলেজ গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসমত মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ বাবু, উপজেলা ছাত্রলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাদমান সাকিব রিফাত, ইসলামপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল রাব্বী, উপজেলা প্রজন্ম দলের সভাপতি হাবিবুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ, শিক্ষার্থী তরিকুল, মিজান, সুজন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক শামীমকে গ্রেপ্তার করা না হলে, বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এর আগে গত বুধবার বিকেলে ওই মামলার আসামি শিক্ষক শামীমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গুঠাইল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা।
২৮ জুন গভীর রাতে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে নিজবসত ঘর থেকে তোলে নিয়ে বাড়ির উঠানে কুলকান্দী ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিম খন্দকারকে কুপিয়ে হত্যা করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। ১ জুলাই তাঁর স্ত্রী রেহেনা খন্দকার বাদী হয়ে ২১ জনের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন।
১৪ জুলাই খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জিগাতলা গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন করেনে এলাকাবাসী ও নিহত রহিম খন্দকারের পরিবারের লোকজন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগষ্ট ভোরে মুখশিমলা গ্রামে একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৭ আগষ্ট এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে হত্যা মামলা করেন। এখনো খুনের শিকার ওই নারীর পরিচয়সহ খুনিদের সনাক্ত হয়নি।
নিখোঁজের দুইদিন পর বহ্মপুত্র নদ থেকে ২ সেপ্টেম্বর কৃষক মনিরুলের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর সদর থানা-পুলিশ। মনিরুল বোলাকীপাড়া গ্রামের মৃত কছর হাজির ছেলে। ৯ সেপ্টেম্বর ১০ জনের নামে মনিরুলের মা জহুরা আক্তার থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও বাকি আসামি অধরা।
এ মামলার বাদি জহুরা খাতুন বলেন, 'আমাদের নিজেদের চেষ্টায় আসামি ধরা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের আগ্রহ নেই।'
২২ মার্চ পৌর শহরের ফকিরপাড়া গ্রামে নিজ বসতবাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে স্বপ্না বেগম (৪৫) এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৩ মার্চ স্বপ্নার স্বামী পতু শাহ তাঁর প্রথম স্ত্রীর ঘরের ছেলে রাসেলসহ অজ্ঞাত চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এখনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। উদঘাটন হয়নি হত্যাকাণ্ডের ক্লু।
১২ আগষ্ট সদর ইউনিয়নে ১০ বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে বলাৎকারের শিকার হয়। ১৬ আগষ্ট নির্যাতিত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করলেও আসামি হানিফ গ্রেপ্তার হয়নি।
২০২৩ সালের ২ আগষ্ট রাতে বেলগাছা ইউনিয়নে এক বাক্-প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হন। ৩ আগষ্ট ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা মামলা করেন। পরপর তিনজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি ইব্রাহিম খলিল।
ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসান বলেন, ’মামলার রহস্য উদঘাটনসহ আসামি গ্রেপ্তারে যথাযথ কাজ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছি। আমাদের কোনো ধরনের খাটতি নেই। সবকিছুই আইনানুসারে হচ্ছে।’
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, ’মামলার রহস্য উদঘাটনসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে যথাসাধ্য চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলমান। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কাজও হয়েছে আশানুরূপ অগ্রগতি।'
১০ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে