সাতক্ষীরায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক কমিটির মাসিক সভায় অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি বাড়ানো হবে। চেতনা নাশক স্প্রে ব্যবহার করে সংঘটিত চুরি ও ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যানজট নিরসনে প্রাণসায়ের খালের ওপর বিকল্প কয়েকটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সভায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে মৎস্য ঘের দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ বিভাগকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া পৌরসভার নিবন্ধিত ইজিবাইক ছাড়া বাইরের ইজিবাইক শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, প্রাণসায়ের খালের জোয়ার-ভাটা প্রবাহ সচল রাখা, খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ভোমরা স্থলবন্দরকে আরও গতিশীল করতে ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ, বন্দর এলাকায় যানজট নিরসন এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় আরও আলোচনা হয় সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়ক নির্মাণে চাঁদাবাজি রোধ, জেলার সব চাঁদাবাজকে গ্রেফতার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তার ধারে ইট-বালু রাখা বন্ধ, খুঁড়াখুঁড়ি কমানো ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিষয়ে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
রবিবার (১২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), বিএনপির আবু জাহিদ ডাবলু, সেনাবাহিনীর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহিম আদনান, ক্যাপ্টেন আলিফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাসরুবা ফেরদৌস, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার স.ম. শহিদুল ইসলামসহ জেলার সাত উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, এনএসআই, ডিজিএফআই, র্যাব, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
১ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে