বিগত কয়েক দশক ধরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাতক্ষীরা জেলা নিয়মিতভাবে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সত্ত্বেও জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে আছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাতক্ষীরাবাসী। এই অব্যাহত বৈষম্যের প্রতিবাদ এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে ঢাকায় নাগরিক সমাবেশ করেছেন জেলার মানুষজন।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ (জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে) সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই নাগরিক সমাবেশে জেলার প্রায় ৪ শতাধিক সচেতন নাগরিক অংশ নেন।
ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী আবুল কাশেম, উপদেষ্টা এডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সামছুল আলম, নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু, বৃহত্তর খুলনা সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শরিফুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজাহারুল আনোয়ার, সদস্য সচিব মোস্তফা বকুলুজ্জামান, সাংবাদিক সাইদুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন, “সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা। সুন্দরবনের কারণে প্রতিবছর লাখো পর্যটক এ জেলায় আসে, কৃষি ও মৎস্য খাত জাতীয় রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু গত ১৭ বছরে সাতক্ষীরা কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসেনি। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ সব খাতেই ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে।”
তারা অভিযোগ করেন, জেলায় আজও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নেই, ফুড প্রসেসিং প্লান্ট ও সংরক্ষণাগারের অভাবে কৃষি ও মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা “আর নয় বৈষম্য, সাতক্ষীরাবাসীর ন্যায্য অধিকার চাই” স্লোগান তুলে ধরে কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেন। সেগুলো হলো—
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
সাতক্ষীরাকে দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্তকরণ।
সুন্দরবনকে ঘিরে টেকসই ইকোটুরিজম গড়ে তোলা।
উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সার্ভেয়ার ইনস্টিটিউট স্থাপন।
পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বাস্তবায়ন।
আধুনিক সেচব্যবস্থা ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ।
নার্সিং ইনস্টিটিউট, ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।
সাতক্ষীরাকে গ্রেড-১ জেলা ঘোষণা এবং পাটকেলঘাটাকে উপজেলা পর্যায়ে উন্নীতকরণ।
আধুনিক বাস টার্মিনাল ও আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ।
নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা প্রবর্তন।
আম, চিংড়ি ও মৎস্য খাতে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন।
মৃৎশিল্প ও স্থানীয় শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরাকে আর অবহেলা না করে বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
২১ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে