কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন কুলিয়ারচরে ট্রাক্টর উল্টে চালকের মৃত্যু মাদক সেবনের দায়ে যুবককে দুই মাসের কারাদণ্ড পীরগাছায় নির্ধারিত অটো, রিকশা ও ভ্যান স্ট্যান্ডের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে শ্রমিক সাধারণ সভা চন্দনাইশে রাহমাতুল্লিল আলামিন কনফারেন্স উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন চিংড়িতে জেলি, বেকারিতে নকল ‘হরলিক্স’—শ্রীমঙ্গলে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্য ডিবির হাতে ‎সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও উপকূলীয় অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ: কোস্ট গার্ডের নতুন কর্মপরিকল্পনা পরিবর্তনের প্রত্যয়ে কাউন্সিলর পদে লড়বেন যুবদল নেতা গোলাম রব্বানী সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের আজীবন দাতা সদস্য কার্যক্রমে অনন্য দৃষ্টান্ত লোহাগাড়ায় ৩৩ হাজার ভোল্টের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, শ্রমিক গুরুতর আহত নিয়ামতপুর ৭নং শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোলাম মোর্শেদ আসন্ন ৭ন শ্রীমন্তপুর ‎ ‎সেনাকর্মকর্তা সেজে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: মোংলায় গ্রেপ্তার ভুয়া মেজর পারভেজ বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের রোগীর পাশাপাশি বাড়ছে নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মধুপুরে চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক-১ নোয়াখালীতে হঠাৎ অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ১৩ হাতিয়ার ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১ নাগেশ্বরী থানা পুলিশের হাতে আটক কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস যশোর হাসপাতালে বৃদ্ধার স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ধারালো কাটারসহ নারী গ্রেপ্তার বাঘায় চুরির ঘটনায় গনপিটুনিতে নিহত -১

কূটনীতির টেবিলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান

বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা ইস্যু এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মুখে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘ সময় ধরে এত বিপুল জনগোষ্ঠীর অবস্থান দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সমাজ ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই সংকট নিরসনে কার্যকর কূটনীতি ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।


বহুমাত্রিক প্রভাব

রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য অনেক দিক থেকে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। কক্সবাজারের পাহাড় কেটে বসতি গড়া, বনাঞ্চল ধ্বংস এবং জনসংখ্যার চাপের কারণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শরণার্থীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন বাংলাদেশকে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য বড় ধরণের বোঝা। পাশাপাশি, মাদক পাচার, মানবপাচার ও চোরাচালানের মতো অপরাধ বাড়ানোর ফলে আইনশৃঙ্খলার ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষও স্পষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে এই সংকটের সমাধান খুব জরুরি।


দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গুরুত্ব

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো মিয়ানমারের সাথে সরাসরি আলোচনা। যদিও দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, বাস্তবে তার ফলাফল কার্যকর হয়নি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসন এই প্রক্রিয়াকে বেশ জটিল করে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশকে নিয়মিতভাবে আলোচনার প্ল্যাটফর্মে মিয়ানমারকে যুক্ত রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে পরিস্কারভাবে তুলে ধরতে হবে যে নিরাপদ, স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন ছাড়া অন্য কোনো সমাধান কার্যকর হবে না।


বহুপাক্ষিক কূটনীতি

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি এবং আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার পরিষদে রোহিঙ্গা সংকটকে নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ যদি বিশ্বজনমতের সামনে তুলে ধরা যায়, তাহলে মিয়ানমারের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম—সার্ক ও আসিয়ানের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।


প্রভাবশালী রাষ্ট্রের ভূমিকা

চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্র প্রায়শই মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয়। বাংলাদেশকে কূটনৈতিক কৌশলে এ দেশগুলোকে বোঝাতে হবে যে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়ন ব্যাহত হবে, যা তাদের স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সুতরাং এই দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সহযোগিতা আদায় করাই হবে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যত দীর্ঘ হবে, ততই মানবিক সহায়তা জরুরি হয়ে পড়বে। খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু রাখা দরকার। না হলে হতাশ হয়ে শরণার্থীরা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা অব্যাহত রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি করণীয় স্পষ্ট। তা হলো মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে নিয়মিতভাবে উপস্থাপন। দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যমত গড়ে তোলা।। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সুবিধা আদায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জনমত সৃষ্টি।

বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। তবে এ সমস্যার দীর্ঘ উপস্থিতি দেশের জন্য এক ভয়াবহ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কার্যকর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব। এখনই সময় বিশ্ব সম্প্রদায়কে পাশে টেনে কূটনীতির টেবিলে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খোঁজার। 


আরও খবর







6a66e2c265a49-270726104658.webp
ওয়াশিংটনের গুলিতে ২ নিহত, আহত ৫

৪৩ দিন ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে