নাঙ্গলকোটে অবৈধ ভাড়াটিয়া উচ্ছেদে পদক্ষেপ নেয়ায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে কৃষ্ণনগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সমন্বয় সভা গোয়ালন্দে অবৈধ ওষুধ বিক্রির দায়ে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা জাবিপ্রবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত আগামীতে আরো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে --এমপি জাহাঙ্গীর আলম "লাখাইয়ে মৎস্য সম্পদের উৎপাদন ও প্রজনন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে"--জেলা প্রশাসক ডক্টর জি এম সরফরাজ । উলিপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মাদক নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্বারোপ আশাশুনির প্রতাপনগরে ১০০ মিটার ওয়াবদা বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন, বাঁধ রক্ষায় পাউবো ও এলাকাকাসীর প্রাণান্তকর চেষ্টা ★১৪ গ্রামে ৬ হাজার বিঘা জমির মাছের ঘের-ফসলি জমি ঝুঁকিতে, ★আতঙ্কে ২৫ সহস্রাধিক এলাকাবাসী ন‌ওগাঁর নিয়ামতপুরে উপজেলা পর্যায়ে CLIMB প্রকল্প অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত পুনর্বহাল হয়ে নবারুণে যোগ দিলেন মালেক গাজী শেরপুরের জেলা প্রশাসকের সহায়তায় হুইলচেয়ারে নতুন স্বস্তি ঝিনাইগাতীর জমেলার গোয়ালন্দে খোলা ট্রাকে বালু পরিবহন, ট্রাক উদ্ধার গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই অসুস্থ সেই বিথীর বাড়িতে ইউএনও শিবচরে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ৫৫ বছরের হামিদুলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জয়পুরহাটে শিশু সুরক্ষায় ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সভা বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার এনার্জি: রয়টার্স নাসিরনগরের কুন্ডায় উঠান বৈঠকে গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বালিশ–কভারবিহীন বেড, নোংরা পরিবেশে রোগীদের চিকিৎসা!





সরকারি সেবা ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তি চরমে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় যখন দেশজুড়ে করোনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রচারণা চলছে, তখন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন অমানবিক পরিবেশে—বালিশ ও কভারবিহীন বেডে, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেটের পাশেই। এ যেন স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের জন্য আরেক ‘রোগে’ আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক।


বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য নির্ধারিত বেডে নেই কোনো বালিশ, নেই কভার বা পরিষ্কার বিছানার চাদর। রোগীদের কেউ কেউ তাদের ব্যক্তিগত ব্যাগ, তোয়ালে, কাপড় কিংবা ছোট বালিশ মাথার নিচে দিয়ে কোনো রকমে শুয়ে আছেন। কেউ কেউ খালি মাথায় কষ্ট সহ্য করে ঘুমাতে চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে স্ট্রোক, হৃদরোগ ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এই অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।


২নং ওয়ার্ডে ভর্তি এক স্ট্রোক রোগীর আত্মীয় জানান, “বুধবার গভীর রাতে রোগী ভর্তি করি। তখন হাসপাতাল থেকে কোনো বালিশ বা কভার দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে নিজের ব্যাগ মাথার নিচে দিয়ে রাত কাটিয়েছি।” পাশেই থাকা অন্য এক রোগীর ছেলে বলেন, “এখানে না আছে বালিশ, না আছে চাদর। এমনকি ফ্যানটাও নোংরা আর ধুলাবালিতে ভরা। আমাদের ঘরে যদি কেউ অসুস্থ হয়, আমরা তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। কিন্তু হাসপাতালের অবস্থা এত খারাপ যে এখানে মানুষ সুস্থ হতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”


হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর অধিকাংশ বেডেই একই চিত্র। নোংরা ও ধুলোবালিতে ভরা বেড, দুর্গন্ধযুক্ত ফ্লোর, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল—সবমিলিয়ে একটি আতঙ্কজনক পরিবেশ। রোগীদের অভিযোগ, টয়লেট ব্যবহার করতে গেলেই চোখে পানি আসে। টয়লেটের মধ্যে পরিষ্কার করার মতো কোনো সরঞ্জাম বা জীবাণুনাশক ব্যবহার হয় না বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ওয়ার্ড ও টয়লেট পরিষ্কারের কোনও উদ্যোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।


তাদের আরও অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের নামে নামমাত্র সেবা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনেও অনেক সময় নার্সদের পাওয়া যায় না। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, রোগী ভর্তি করাতে গিয়ে দুর্ব্যবহার ও দালালচক্রের সঙ্গেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের।


হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অর্থ সংকট, জনবল সংকট এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এসব সমস্যা চলছে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণে কোনো বাড়তি উদ্যোগ নেই।”


সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সদর হাসপাতালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীদের ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব। যদি এখানে এসব মৌলিক সুযোগ-সুবিধাই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”


এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


এভাবে যদি জনসেবা প্রদানকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা চলতে থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতি জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।

Tag
আরও খবর