/ সারাদেশ

দেশচিত্রে খবর প্রকাশ হওয়ায় ইউপি কার্যালয় ইউএনও'র পরিদর্শন : ইউপি সচিবকে শোকজ

দেলোয়ার হোসাইন - সুপার এডমিন

আপডেট: 03-05-2021 10:43:59

এম. কে. দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর :


জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নিজস্ব কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকারের নাগরিক সেবা প্রদান না করে ইউপি ভবন তালাবদ্ধ করে রাখার দায়ে ইউপি সচিব সৈয়দ ফিরোজুল আলম ফিরোজকে শোকজ করা হয়েছে।



রবিবার (২ মে) শোকজের নোটিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে অভিযুক্ত ওই ইউপি সচিবকে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল বহুল প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেশচিত্র-তে 'গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের তালা খোলা হয় না মাসের পর মাস' শিরোনামে  খবর প্রকাশ হয়।


এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। ফলশ্রুতিতে পরদিন ২৮ এপ্রিল ইউপি কার্যালয় পরিদর্শন করেন ইউএনও এস. এম. মাজহারুল ইসলাম। এ সময় তিনি ইউপি কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখতে পান। ইউপি সচিব কিংবা চেয়ারম্যান কাউকে তিনি সেখানে পাননি। 


ইউএনও'র কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেনো ইউপি কার্যালয়ে ইউনিয়নবাসীকে স্থানীয় সরকারের সেবা প্রদান হচ্ছে না মর্মে গত ২৯ এপ্রিল ইউপি সচিব সৈয়দ ফিরোজুল আলম ফিরোজকে শোকজ করেন ইউএনও এস. এম. মাজহারুল ইসলাম। ইউএনওর কার্যালয় থেকে ৪৫৪ নং স্মারকে শোকজ বার্তায় ইউপির নিজস্ব কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে 'কেনো স্থানীয় সরকারের সেবা দেয়া হচ্ছে না, এর কারণদর্শানো হয়েছে অভিযুক্ত ইউপি সচিব সৈয়দ ফিরোজুল আলম ফিরোজকে। তিন কার্যদিবসে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়। 
শোকজের অনুলিপি জেলা প্রশাসক এবং ডিজিএলডি বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।


ইউনিয়নের পোড়ারচর গ্রামের আফেল সরদার অভিযোগ করে জানান, 'ইউপি ভবনের তালা মাসের পর মাস খোলা হয় না। মাসের পর মাস ইউপি ভবন তালাবদ্ধ থাকায় স্থানীয় সরকারের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী। 
মালপাড়া গ্রামের আফছার আলী সরদার জানান, প্রতিবছর ইউপি ভবনের জন্য লাখ-লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও ইউপি সচিব, চেয়ারম্যান অফিস করেন উপজেলা সদরের পুলিশ কল্যাণ সুপার মার্কেটের একটি দোকানে।
টানাব্রিজ এলাকার হাসমত আলী, কড়ইতলার আকবর মিয়া, চন্দনপুরের মিজান, শাহপাড়ার আল আমীনসহ অনেকেই জানান, চেয়ারম্যান এবং সচিব কেউ ইউপি ভবনে আসে না। যে কারণে স্থানীয় সরকারের সেবা নিতে আসা মানুষকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইসলামপুরে যেতে হয়।


জন্ম নিবন্ধন এর উদ্যোক্তা ইউপি কার্যালয়ে বসলেও  সচিব এবং চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিতে সুবিধাভোগীদের যেতে হয় উপজেলা সদরে। সেখানেও প্রয়োজন মতো পাওয়া যায় না ইউপি সচিব এবং চেয়ারম্যানকে। প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। ফলে একটি জন্মনিবন্ধন বা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে একদিকে  এলাকাবাসীর ব্যয় করতে হয় মোটা অংকের অর্থ। অন্যদিকে সময়ও নষ্ট হয়।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সৈয়দ ফিরোজুল আলম ফিরোজের সাথে যোগাযোগ করা হলে শোকজের সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, 'চেয়ারম্যান সাহেব ইউপি ভবনে কাজের সময় বসেন। আমিও তখন সেখানেই বসি। এখন থেকে নিয়মিত ইউপি ভবনেই নাগরিক সেবা প্রদান করা হবে।'


গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারীর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে না পাওয়া তার কোনো মন্তব্য দেয়া গেলো না।


ইউএনও এস. এম. মাজহারুল ইসলাম, জানান, 'গাইবান্ধা ইউপি ভবন তালাবদ্ধ থাকাসহ ইউপির  কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকারের সেবা দেয়া হচ্ছে না, মর্মে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ইউপি কার্যালয় পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনকালে ইউপি কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখতে পাই। এ বিষয়ে ইউপি সচিব সৈয়দ  ফিরোজুল আলম ফিরোজকে শোকজ করেছি। যাতে ইউনিয়নবাসী স্থানীয় সরকারের সেবাগুলো ইউপির নিজস্ব কার্যালয় থেকে পায়। সেবিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

Comments (0)

Comments