/ সম্পাদকীয় ও কলাম

শ্রমিক দিবসের প্রত্যাশা

সায়েম আহমাদ - রিপোর্টার

আপডেট: 01-05-2021 05:30:08

আজ পহেলা মে। বিশ্ব শ্রমিক দিবস। এই শ্রমিক দিবসের আন্দোলনের ইতিহাস চির স্মরণীয় অধ্যায়। মেহনতী মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং রক্তের মূল্য অধিকার আদায়ের স্মারক দিবস। দিনটির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল শ্রমিকদের হাজার বছরের শোষণ বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে।


অবহেলিত, বঞ্চিত, শোষিত মানুষের নির্ভয় উচ্চারণের দিনের নাম মে দিবস বা বিশ্ব শ্রমিক দিবস। আন্দোলন করে দাবি আদায়ের দিন। হাজার হাজার শ্রমিকের পায়ের তলা মিছিলের কথা, আপসহীন সংগ্রামের কথা বলে মে দিবস। মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকদের এক হওয়ার দিন।প্রকৃতপক্ষে মে দিবস বলতে বুঝায় শ্রমিকদের কাজের সময়ের হ্রাস তাদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো নগরীর লক্ষ লক্ষ শ্রমিক দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণ ও ন্যায্য  মজুরির দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করে।


যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন দৃঢ় হয় ৩ ও ৪ মে। কিন্তু আন্দোলন দমাতে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ১১ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। সেই সঙ্গে বহু শ্রমিক আহত হয়। পুলিশ অগণিত শ্রমিককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ৬ জন শ্রমিকদের মধ্যে ৬ জনকে পরে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। এমনকি জেলে বন্দী অবস্থায় আত্মহত্যা করে এক শ্রমিক নেতা। শ্রমিক আন্দোলন কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বিশ্বের সকল দেশেই মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে এই মে দিবস।


উৎসবের দিন, জাগরণের দিন, শোষণমুক্তির অঙ্গীকার এগুলোই হচ্ছে মে দিবসের তাৎপর্য। জীবন দানের বিনিময় শ্রমিকদের সেই দাবি আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। আমাদের দেশেও এ দিনটি পালন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের শ্রমিকরা আজ অবহেলিত। তাদের নেই কোনো অধিকার। নেই কোনো যথার্থ মূল্যায়ন। শ্রমিকরা আদৌ তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না‌। বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর তারা যদি ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে তাহলে পুলিশ তাদের উপর চড়াও হয়। তারাও অপমানিত হচ্ছে আমাদের দেশে প্রতিটি ক্ষণে। অথচ তারাই এ দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের মূল্যায়ন করা আমাদের জরুরী।


কারণ তাদের উপর নির্ভর করে আজও আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল। সুতরাং পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের দেশের শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে সরকার ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। তাদেরকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের সুচিকিৎসা এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে। তাদের যত ধরনের বৈষম্য রয়েছে সেগুলো দূরীভূত করে সমাজে আলোকিত হয়ে বাঁচতে দিতে হবে। আর এটাই হোক বিশ্ব শ্রমিক দিবসের প্রত্যাশা।



মরিয়ম আক্তার

শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান বিভাগ

আবদুল গফুর ভূঁইয়া কলেজ

নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা

Tag

Comments (0)

Comments