/ ধর্মীয়

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত

সায়েম আহমাদ - রিপোর্টার

আপডেট: 22-04-2021 13:01:33

এই মাস রমাদান ‎মাস।দোয়া কবুলের মাস।নেকি কামানোর মাস।নেকির ভান্ডার পূর্ণ করার মাস।এ-মাস হচ্ছে ‎পূণ্য কামানোর শ্রেষ্ঠ সময়। তাই যেসব কাজ বা আমল করলে বেশি সাওয়াবের অধিকারী ‎হওয়া যায় সেসব কাজে বা আমলে মনোনিবেশ করা (প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য) । যেমন ; ‎রোজা রাখা,কোরআন তেলাওয়াত করা,এতেকাফ করা,সাহরী খাওয়া, সাদকা করা,ইফতার ‎করা ও করানো, কল্যাণমূলক কাজ করা,ইত্যাদি ইত্যাদি। ‎



ইফতার করানোর ফজিলত নিয়ে কিছু কথা।


‎(রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসের শেষদিন রমযান মাস সম্পর্কে ‎সাহাবীদের কে কিছু নসীহত করেন। সেখানে তিনি এটাও বলেন: “এ মাস সহমর্মিতার মাস”। ‎‎(শুআবুল ঈমান, হাদীস নং: ৩৩৩৬) এর মাধ্যমে রাসূল সা: এ মাসে সহমর্মিতার প্রশিক্ষণ ‎নেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করছেন। অন্যের কষ্টে ব্যথিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন ‎মু’মিনদেরকে। তিনি যেন বলছেন, তোমরা যখন সাহরী করবে, তখন খোঁজ নিও তোমার ‎প্রতিবেশীর। তুমি তো হরেক রকম খাবার খেয়ে সাহরী করছো, সে কি এক রকম খাবারও ‎পাচ্ছে? তোমরা দিনের শেষে যখন ইফতার করবে, তখন তোমাদের পাশের ব্যক্তি, পাশের ‎পরিবারের প্রতি লক্ষ্য করিও; সে / তারা হয়তো ইফতার করার মতো কিছু পাচ্ছে না। ‎সহমর্মিতার এই শিক্ষায় আলোকিত করবার জন্য মহান নবী সা: স্বতন্ত্র কিছু সওয়াবের কথাও ‎বর্ণনা করেছেন। যেগুলোর দিকে নজর করলে মনে হয়, কত মহান আমাদের প্রভু। তিনি ‎সামান্য কাজে, সামান্য খরচের বিনিময়ে কী অসামান্য ছওয়াব রেখেছেন! ‎


রোযাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ‎ওয়াসাল্লাম বলেছেন ; 'যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে,তা তার ‎পাপমোচন ও দোযখ থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং এতে সে ঐ রোযাদারের সমান পুণ্যের ‎অধিকারী হবে, অথচ রোযাদেরর পূণ্য তাতে একটুও কমবে না। তখন সাহাবীগণ আরয ‎করলেন,ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের সকলের তো রোযাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার ‎করাবার সামর্থ্য নেই। তখন রাসুলুল্লাহ সাঃ বললেন; 'যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে এক ঢোক ‎দুধ দ্বারা বা একটি খেজুর দ্বারা বা একটু (এখানেও এক ঢোক লিখ ) পানি দ্বারা ইফতার ‎করাবে তাকেও আল্লাহ তায়া’লা রোযাদারের সমান সাওয়াব দেবেন।আর যে ব্যক্তি কোন ‎রোযাদারকে তৃপ্তি সহকারে উদর পূর্ণ করে খাওয়াবে,আল্লাহ তায়া’লা তাকে আমার হাউজ ‎থেকে এমন পানি পান করাবেন যে,সে জান্নাতে যাওয়া পর্যন্ত আর কখনো পিপাসার্ত হবে না। ‎‎(সহীহ্ ইবনে খুযাইমা-১৮৮৭,বায়হাকী) (দেখুন, ইফতার করিয়ে ছওয়াব পাওয়ার জন্য খুব ‎আহামরি কিছু খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। একেবারে নিতান্তই কিছু খাওয়ালেও আল্লাহ তার ‎জন্য আজরের ব্যবস্থ করে রেখেছেন। )‎


ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. সহীহ্ ইবনে হিব্বানে আরো ‎একটি হাদীস বর্ণনা করেন।  ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে তার উপার্জিত হালাল রিজিক হতে ‎কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, ফিরিশতাগণ রমজান মাসের প্রত্যেক রাতে তার জন্য ‎আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। আর কদরের রাতে হজরত জিবরাইল আ. তার ‎সাথে মোসাফাহা করবেন। আর যার সাথে হজরত জিবরাইল আ. মোসাফাহা করবেন তার ‎অন্তর কাঠিন্যমুক্ত হবে এবং আল্লাহর ভয়ে কান্নার সময় তার অশ্রু বৃদ্ধি পাবে।’ (সহীহ্ ইবনে ‎হিব্বান) বাহ কতো চমৎকার পুরস্কার আল্লাহর পক্ষ হতে! আপনি সারাদিন রোজা রেখে ‎নিশ্চিত হতে পারেন না আপনার রোজা কবুল হয়েছে কি না বা পূর্ণ নেকি পেয়েছেন কি ‎না।কিন্তু আপনি একজন রোযাদারকে ইফতার করানোর মাধ্যমে সে-ব্যক্তির রোযা রাখার ‎পুরো ফজিলত পেয়ে যাচ্ছেন।জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত কামিয়ে নিচ্ছেন।কেয়ামতের ‎দিনে সবচেয়ে ভয়াবহ মুহুর্তে আপনি হাউজে কাউসারের পানি পেয়ে যাচ্ছেন।আল্লাহু ‎আকবার।এতো এতো সুন্দর ফজিলত পেয়েও কেন আপনি এই আমল করছেন না? আল্লাহ ‎তায়া’লা আপনাকে যদি সামর্থ্য দিয়ে থাকে তাহলে এটাও একটা সুযোগ এই মাসে নেকির ‎ভাণ্ডার পূর্ণ করার। হোক না সামর্থ্য যৎসামান্নাই। যতটুকু সামর্থ আছে তা নিয়েই শুরু করে ‎দিন।নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া’লা এর মধ্যে বরকত দেবেন। বর্তমান এই লক ডাউনের কারণে ‎কতো মানুষ না খেয়ে আছে,অনেক মানুষ ভালো ইফতার ও সাহরি খাওয়ারও সুযোগ হয় ‎না।তাদের জীবন অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।অথচ  তারা আপনার প্রতিবেশী, প্রতিবেশী ‎হিসেবেও তো তাদের প্রতি আপনার একটা হক আছে তাদের খোঁজ খবর নেওয়ার।আপনি ‎ইফতার ও সাহরিতে পেট ভরে খেয়ে বাকি খাবারের অপচয় করছেন।আর আপনার পাশের, ‎আপনার এলাকারই আরেকটি পরিবার না খেয়ে রোজা রাখছেন,অনেকে শুধু পান্থা ভাত, ‎পানি আর লবন দিয়ে খেয়ে রোজা রাখছেন আর ইফতার করছেন শুধু পানি দিয়ে।একজন ‎মুসলমান হিসেবে আপনার কী কোন দায়িত্ববোধ নেই?আল্লাহ আপনাকে যেই নেয়ামত ‎দিয়েছেন সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় আপনি করবেন না?আপনি যদি সেই নেয়ামতের ‎শুকরিয়া আদায় না করেন তাহলে একটা সময় আল্লাহ তায়া’লা আপনার কাছ থেকে সেই ‎নেয়ামত ছিনিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি মনে করি আমাদের দেশের প্রতিটি বিত্তবান বা ‎সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি তাদের প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নেন তাহলে এদেশের মানুষ না খেয়ে ‎রোজা রাখবে না।শুধু পানি দিয়ে ইফতার করতে হবে না তাদের।তাই আসুন, আমরা আমাদের  ‎সামর্থ্য অনুযায়ী অন্য রোযাদারকে ইফতার করাই,সাহরি খাওয়াই। এতে আমাদের  আপনার ‎নেকির ভাণ্ডার পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।  আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মুসলিম উম্মাহর ‎রোজাদারদেরকে, অস্বচ্ছল, গরীব-দুঃখীকে ইফতার করানোর তাওফীক দান করুন। তাদের ‎ইফতার করার জন্য অর্থ দান করার তাওফিক দান করুন, আমিন।


লেখক, উসমান বিন ‎আ.আলিম 

গবেষক, প্রাবন্ধিক 

পরিচালক, বাংলাদেশ কওমী তরুণ লেখক ফোরাম। 

Tag

Comments (0)

Comments