বর্তমান সময়ে একজন মানুষের দৈনন্দিন আয়ের বড় একটি অংশ চিকিৎসা ব্যয়ে ব্যয় হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়। সেই চিকিৎসাসেবা যদি হয় অননুমোদিত বা অপচিকিৎসার মাধ্যমে, তবে তা শুধু অর্থের অপচয় নয়, মানুষের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
এমন অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে সার্জেন্ট (অব.) মো. তায়েফ উদ্দিন রতন মোল্লার বাড়িতে পরিচালিত একটি অননুমোদিত ক্লিনিককে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, ডিএমএফ (DMF) কোর্স সম্পন্ন করা সিনথিয়া দীনা নিজের নামের সঙ্গে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে মেডিসিন, গাইনী, প্রসূতি, মা ও শিশু রোগের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন।
রবিবার ( ৭ জুন) গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল তথ্য সংগ্রহে গেলে সিনথিয়া দীনার স্বামী ফজলে রাব্বি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা কী জানতে চান, রায়পুর উপজেলা টিএইচও’র (স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) কাছ থেকে জেনে নিন। আমাদের ক্লিনিক সম্পর্কে তিনি সব জানেন। লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি জেনে নিতে পারেন।” পরে তিনি সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে গেট বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্লিনিকের সামনে টানানো সাইনবোর্ডে দেখা যায়, সেখানে গর্ভবতী নারীদের গর্ভকালীন চিকিৎসা, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা, নরমাল ডেলিভারি, অক্সিজেন সেবা, ক্যাথেটার স্থাপন, সিজারের সেলাই কাটা এবং বিভিন্ন গাইনী রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের টেস্টও করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সংগ্রহের সময় একটি কক্ষকে ক্লিনিক হিসেবে ব্যবহার করার বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। সেখানে রোগী দেখার সরঞ্জাম ও বিভিন্ন পরীক্ষার উপকরণও দেখা গেছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে সিনথিয়া দীনার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তার স্বামী ফজলে রাব্বি জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবেন না।
বিষয়টি ততক্ষণাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ বাহারুল আলম, জেলা সিভিল সার্জন সহ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এ নিউজ লেখা পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি ও নিবন্ধন ছাড়াই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের অসচেতন নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “চরাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব থাকায় সাধারণ মানুষ সহজেই এসব চেম্বারে চিকিৎসা নিতে যায়। কিন্তু ভুল চিকিৎসার কারণে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অনুমোদনবিহীনভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেন, “বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানান। তিনি ব্যবস্থা না নিলে আমাকে অবহিত করবেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১ দিন ১৯ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৪ দিন ৫ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৭ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৯ দিন ২০ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১০ দিন ৪ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
১২ দিন ১৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে