সাংবাদিকতা শব্দটি ছোট হলেও এর দায়িত্ব অনেক বড়। সমাজের অসংগতি তুলে ধরা, মানুষের কথা বলা, সত্য অনুসন্ধান করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরা এসবই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতা কি অন্য একজন সাংবাদিকের পেছনে নিন্দা করার নাম? নাকি কোনো সহকর্মীকে ‘সাংবাদিক নন’ বলে আখ্যায়িত করে তার পেশাগত পরিচয়কে খাটো করার নাম?নিশ্চয়ই নয়।
একজন সাংবাদিকের কাজ হলো সমাজের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা। কিন্তু সহকর্মীর ব্যক্তিগত সম্মান নষ্ট করা, তার পেশাগত পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করা কিংবা প্রমাণ ছাড়া নানা মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এ প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছেই করা উচিত।
সাংবাদিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সংবাদ প্রকাশের ধরন, অনুসন্ধানের পদ্ধতি, রাজনৈতিক বা সামাজিক বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু এক হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু মতের অমিলকে ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত করা কখনোই সুস্থ সাংবাদিকতার লক্ষণ হতে পারে না।
কেউ যদি ভুল সংবাদ প্রকাশ করেন, তার প্রতিবাদ করা যাবে। তথ্য ভুল হলে সংশোধনের দাবি জানানো যাবে। প্রয়োজন হলে প্রমাণসহ সত্য তথ্য তুলে ধরা যাবে। কিন্তু একজন সাংবাদিককে সাংবাদিক নয় বলে ‘সাব্যস্ত’ করার চেষ্টা করা, তার পেশাগত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা আড়ালে নিন্দা করা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। বরং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সাংবাদিক সমাজ।
একজন সাংবাদিক যখন অন্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় কুৎসা ছড়ান, তখন সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয় যারা সমাজের সত্য তুলে ধরেন, তাদের নিজেদের মধ্যেই যদি পারস্পরিক সম্মান না থাকে, তাহলে তারা কীভাবে অন্যের ন্যায়বিচার ও অধিকার নিয়ে কথা বলবেন?
সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার মাঠ নয়। এখানে একজনের ভালো কাজ অন্যজনের কাজকে ছোট করে না। বরং একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যদি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, সেটি পুরো সাংবাদিক সমাজের অর্জন। তাই সহকর্মীর ভুল ধরতে হলে তথ্য দিয়ে ধরুন, অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিন, মতের বিরোধ হলে যুক্তি দিয়ে কথা বলুন। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, পেছনে নিন্দা কিংবা অপমানজনক মন্তব্য থেকে বিরত থাকাই পেশার মর্যাদা রক্ষার পথ।
আমাদের মনে রাখা দরকার সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পরিচয়পত্র নয়, তার কাজ। তিনি কী লিখছেন, কীভাবে তথ্য যাচাই করছেন, মানুষের জন্য কতটা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। একজন সাংবাদিক আরেকজন সাংবাদিককে ছোট করলে হয়তো সাময়িকভাবে ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে সাংবাদিকতার মর্যাদা বাড়ে না।
সাংবাদিকতা মানে সত্যের অনুসন্ধান। সাংবাদিকতা মানে মানুষের কথা বলা।সাংবাদিকতা মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা।আর সাংবাদিকতা মানে সহকর্মীর পেশাগত সম্মান ধ্বংস করা এমন কোনো শিক্ষা সাংবাদিকতার ইতিহাস আমাদের দেয় না।
তাই সময় এসেছে নিজেদের দিকে তাকানোর। আমরা কি কলমকে সত্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছি, নাকি সহকর্মীকে ছোট করার অস্ত্র হিসেবে? অন্য সাংবাদিককে নিচে নামিয়ে কেউ বড় সাংবাদিক হতে পারে না। নিজের কাজের সততা, তথ্যের নির্ভুলতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয়।
১৫ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১ দিন ১৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১ দিন ১৫ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
১ দিন ১৬ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১ দিন ১৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৪ দিন ১৫ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৫ দিন ১ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৬ দিন ১৪ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে