জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী আশাশুনি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করনে নতুন ভবনের সয়েল টেস্ট উদ্বোধন তা’মীরুল মিল্লাতে আলিমে ভর্তি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ, নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারেননি অনেকে! দিনাজপুরে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের পীরগাছায় ছেলের হাতে বাবা খুন, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ১৬ বছরে পদার্পণ লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব পীরগাছায় আল হাজরা ইয়াতিমখানার হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান উপলক্ষে তাফসির মাহফিলের প্রস্তুতি ও সুধী সমাবেশ কবিরহাটে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ-এর প্রশিক্ষণ উদ্বোধন ঈশ্বরগঞ্জে নারী ও কন্যা শিশুর সহিংসতা নিরসনে আলোচনা সভা রূপালী ব্যাংকের গোপীনাথপুর শাখার নতুন ভবনের উদ্বোধন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা ব্রীজের উপর ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত কুষ্টিয়া রাজবাড়ী মহা সড়কে ট্রাক- নসিমন সংঘর্ষে ১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বরিশাল মহানগর বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ঝিনাইগাতীতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে : জ্বালানি মন্ত্রী হাম উপসর্গে ঝরে গেল আরো ৯ শিশুর প্রাণ, আক্রান্ত ১৩৪১ আদমদীঘির চাঁপাপুর ইউপির চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিটলুর কর্মী সমাবেশ মোংলা নদীতে ভালোবাসার ফুল ছিটিয়ে বিশ্ব নদী দিবস পালন ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করলেন কুতুবদিয়ার এ.কে.এম.সেলিম

‎মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক: উদ্ধার ৪ চোরাই মোটরসাইকেল

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ

‎বাগেরহাটের মোংলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে আটক এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

‎বাগেরহাটের মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় ছয় সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ৯ জুন মধ্যরাতে মোংলা ও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে মো. রনি হাওলাদার, মেহেদী হাসান, মো. সজীব আহমেদ জয়, মো. সাজেদুল ইসলাম, মো. নাজমুল শেখ ও তানভীর হোসেন শাওন রয়েছেন। এই চোর চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে সুসংগঠিতভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল, যা এই চক্রের দীর্ঘদিনের অপতৎপরতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বুধবার সকালে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুপুরের দিকে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

‎

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মোংলা বন্দরের প্রাণিসম্পদ কোয়ারান্টাইন স্টেশনের অফিস সহকারী শেখ আল-আমিন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মার্কিন জোয়াদ্দারের মোটরসাইকেল দুটি দিগরাজ বাজারের শাহিন হোটেলের সামনে থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, আটককৃত রনি হাওলাদার এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করত এবং চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে ফেলে বিক্রি করে দিত। ভুক্তভোগীদের মতে, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে জনবহুল এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল, যার ফলে সাধারণ মালিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, দিগরাজ বাজারসহ মোংলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার অপর্যাপ্ততা এবং নজরদারির অভাবকে পুঁজি করেই এই চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।

‎

‎ঘটনার বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে রনি হাওলাদারের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পরই মূলত এই চক্রের মূল নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে বাকি পাঁচ সহযোগীকে আটক করা সম্ভব হয়। পুলিশের এই সফল অভিযানে উদ্ধারকৃত চারটি মোটরসাইকেলের মালিকদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এই চক্রটি কেবল মোংলা বা রামপাল নয়, বরং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও তাদের চুরির জাল বিস্তার করেছিল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চক্রের সাথে অন্য কোনো বড় কোনো সিন্ডিকেট বা চোরাকারবারি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদনসহ অধিকতর তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের চক্রের সদস্যদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সরকারি বা বেসরকারি কোনো সম্পদের ওপর হাত দেওয়ার সাহস না পায়।

‎

‎মোংলায় সংঘটিত এই চুরির ঘটনা এবং পরবর্তী গ্রেফতারি অভিযান পরিবহন খাতে নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। আন্তঃজেলা চোর চক্রের এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া পুলিশের জন্য একটি বড় সাফল্য হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো মোটরসাইকেল চুরি নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। যাতায়াত ব্যবস্থার প্রধান এই মাধ্যমকে সুরক্ষিত রাখতে ভবিষ্যতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং জনবহুল এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির প্রবণতা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিবহন মালিক ও সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নতমানের লক ব্যবহারের বিকল্প নেই, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

‎

‎

আরও খবর