মুক্তিপণের দাবিতে ১০ দিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতন, কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনে পালাল দস্যুরা।
সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবল থেকে ছয় জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে সুন্দরবনের শিবসা নদীসংলগ্ন কালির খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। দস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে জেলেদের জিম্মি করে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছিল বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, জিম্মি জেলেদের উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে ভোর ৫টার দিকে কালির খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন কোস্টগার্ড সদস্যরা। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা জেলেদের ফেলে সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়। এ কারণে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন খুলনার কয়রা উপজেলার রফিকুল (৩০), আলামিন (২৬) ও ইসমাঈল সানা (২৪) এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজান আলী (৩৬), রেজওয়ান (২২) ও মিয়া রাজ (১৮)।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, মো. কবির নামের এক ব্যক্তি তাঁর ভাইকে ১০ দিন ধরে বনদস্যুরা জিম্মি করে রেখেছে এবং মুক্তিপণ দাবি করছে—এমন অভিযোগ জানিয়ে কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জেলেদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা দমন এবং জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে ও বনজীবীর জীবিকা নিরাপদ রাখতে বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করা জরুরি। মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের অপহরণ ও জিম্মি করার ঘটনা তাঁদের জীবিকা ও নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে ফেলছে। কোস্টগার্ডের এ অভিযান সুন্দরবনে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।