যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে দুরারোগ্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রংপুরের পীরগাছার মেধাবী ছাত্রী ফারজানা আক্তার নিঝুম। অজ্ঞাত জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তার শরীরে নিয়মিত কমে যাচ্ছে রক্তের প্লাটিলেট। মেয়েকে বাঁচাতে গত এক বছরে চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকা খরচ করে এখন সর্বস্বান্ত তার বাবা ভুট্টু মিয়া।
নিঝুম পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের অভিরাম গ্রামের ভুট্টু মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা। প্রায় এক বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে জটিল রোগ ধরা পড়ে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তাকে দুই ব্যাগ রক্ত ও এক ব্যাগ প্লাটিলেট দিতে হচ্ছে। রক্ত ও প্লাটিলেট না দিলে শরীরে ফোসকা পড়ার পাশাপাশি অনবরত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিঝুমের বাবা ভুট্টু মিয়া জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য গত এক বছরে প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বিক্রি করে দিয়েছেন মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বসতভিটাও। বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটছে তাদের।
ভুট্টু মিয়া বলেন, “মেয়েটাকে বাঁচাতে এতদিন মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করেছি। এখন আর কেউ আগের মতো টাকা দিতে পারছেন না। প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাগে। কখনো কখনো ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এই টাকা আমি কোথায় পাব?”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে নিঝুমকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এটিজি (ATG) থেরাপি দেওয়া হয়। তবে তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাকে পুনরায় এটিজি থেরাপি অথবা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করার পরামর্শ দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পুনরায় এটিজি থেরাপি দিতে প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা। আর বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে নিয়মিত রক্ত, প্লাটিলেট, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় তো রয়েছেই।
মেয়ের চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন ভুট্টু মিয়া। বিপুল এই অর্থের জোগান দেওয়া তার পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও দেশ-বিদেশের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবারটি।
নিঝুমের মা আফরোজা বেগম বলেন, “আমি আমার মেয়েকে বাঁচাতে চাই। চিকিৎসকরা বলেছেন দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু এত টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। আমার একমাত্র মেয়েটাকে বাঁচাতে সবাই যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো তাকে আবার স্কুলের পোশাকে ফিরিয়ে দিতে পারব।”
মেধাবী ছাত্রী ফারজানা আক্তার নিঝুমের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছে সহপাঠী মীম আক্তার, শিক্ষক রাশেদুল ইসলামসহ অনেকে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা 01343603430 নগদ/বিকাশ অথবা অগ্রণী ব্যাংক পীরগাছা শাখা -হিসাব নম্বর 0200009567492
৮ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে