বগুড়ার শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের সমারোহ। দিগন্তজোড়া ধানক্ষেত, বাতাসে দুলছে ধানের শীষ, মাঠভরা ফসল দেখে কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ছাপ। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে ধানের শীষ বের হয়েছে। পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় বেশ ভালোভাবেই বেড়ে উঠছে আমন ধান। সবুজ ধানক্ষেতের নয়নাভিরাম দৃশ্য গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেও আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। কৃষকের স্বপ্ন এখন ধানের শীষের সঙ্গে দুলছে মাঠের পর মাঠ।
কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং আগামী দেড় মাসের মধ্যে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনের ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের একটি ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন মাঠে যাচ্ছি এবং আমার কৃষক ভাইদের প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগসহ সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ধানের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগাম জাতের এসব আমন ধান কাটা মাড়াই হওয়ার পর পরই শুরু হয় রবি শস্য'র কাজ।কৃষকরা আলু ও সরিষা জমি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ১০ বিঘা জমিতে আগাম জাতের ব্রি-৪৯ ধান চাষ করেছি রোগবালায় অনেকটাই কম, তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং ধানের দাম ভালো থাকলে আমনে অনেকটাই লাভবান হওয়া যাবে। এদিকে আশ্বিনের শুরুতেই প্রকৃতিতে অনুভূত হচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া। ভোরের বাতাসে বইতে শুরু করেছে শীতের আগমনী হাওয়া। ঘাস, গাছের পাতা আর সবুজ ধানক্ষেতে জমছে শিশির। ভোরের আলো ফুটতেই শিশিরভেজা ধানক্ষেত যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব চিত্রপট হয়ে উঠছে। গ্রামের মাঠ-ঘাটে দেখা যাচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের নানা চিত্র। সবুজ ধানগাছের পাতায় জমে থাকা শিশির সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে। ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশে কৃষকেরা মাঠে ছুটছেন। চারপাশে বিরাজ করছে শান্ত, নির্মল ও মনোরম আবহ।প্রকৃতির এই পরিবর্তন যেন জানান দিচ্ছে—বিদায় নিচ্ছে গরমের তীব্রতা, ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে শীত।
আশ্বিনের শিন শিন হাওয়া আর শিশিরভেজা সবুজ ধানক্ষেত গ্রামবাংলায় নিয়ে এসেছে শীতের আগমনী বার্তা। নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে জমির পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে। উপজেলার প্রতিটি মাঠে ধানক্ষেত খুব ভালো দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। বর্তমানে আমরা মাঠে বেশি সময় দিচ্ছি, যাতে কৃষকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পান। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি হলে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হন। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়লে দেশের খাদ্যচাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আশা করছি, এবার আমন ধানের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
৩ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১ দিন ১৯ মিনিট আগে
১ দিন ২১ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১ দিন ১৫ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে