মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ গারাংগিয়া সড়কটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং করা হলেও কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল, সড়কের পাশে কাঠের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা এবং বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচলকে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নতুন সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও ছোট যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
জনস্বার্থের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন উত্তর আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও লোহাগাড়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম। তিনি এলাকাবাসীর পক্ষে এ আবেদন করেন।
আবেদনে গারাংগিয়া সড়কে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বালুবাহী ভারী ট্রাক বন্ধ, সড়কের দুই পাশ থেকে গাছের গুঁড়ি অপসারণ এবং সড়কটি অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের পর থেকেই স্থানীয় দুটি ইটভাটা থেকে ৩০ টনের বেশি ধারণক্ষমতার ট্রাক ও ডাম্প ট্রাকে ইট পরিবহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ চাকার ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণেও সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
এদিকে সড়কের দুই পাশে কাঠ ব্যবসায়ীরা গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হচ্ছে। গাছের গুঁড়ি ওঠানো-নামানোর সময় সড়কের ওপর রাখায় কার্পেটিংও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারী যানবাহনের উচ্চ শব্দের হাইড্রোলিক হর্নে শব্দদূষণ বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নতুন সড়ক পেয়ে এলাকাবাসী আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত ভারী যানবাহন ও সড়কের পাশে কাঠের গুঁড়ি রাখার কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের পাশের দখলদারি বন্ধ করলে গারাংগিয়া সড়কটি রক্ষা করা সম্ভব হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি এলাকার হাজারো মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
১ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে